মমতার চেয়ারে বসবেন না নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
ছবি-সংগৃহীত
শুভজিৎ পুততুন্ড, কলকাতা
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ | ১৯:৫৮
পশ্চিমবঙ্গের নবম এবং বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শনিবার শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সকাল ১১টা ৩৩ মিনিটে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল আর এন রবি। গেরুয়া ফতুয়া, দুধে-আলতা পাড় ধুতি এবং কপালে গেরুয়া তিলক লাগিয়ে শপথ নেন শুভেন্দু।
শপথের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে শুভেন্দুর পিঠ চাপড়ে অভিনন্দন জানান। পরে রাজ্যপাল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংসহ মঞ্চে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গেও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী।
তবে এদিন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার ঘোষণা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর পর মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন পাঁচ বিধায়ক—দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামানিক। যদিও এখনও তাঁদের দপ্তর বণ্টন হয়নি।
রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজন করে নজির গড়েছে বিজেপি। অতীতে পশ্চিমবঙ্গে কোনো সরকারই ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নেয়নি। লাখো সমর্থকের উপস্থিতিতে এই প্রথম ব্রিগেডে সরকার গঠনের শপথ অনুষ্ঠিত হলো।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিজেপি শাসিত ও জোট সরকারের ২৩টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা। উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতীন নাবিন, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনাবিস, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাসহ বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী, শিল্পপতি হর্ষ নেওটিয়া ও সঞ্জীব গোয়েঙ্কাও।
সকাল ১০টা থেকে মূলত রবীন্দ্রসংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। সাড়ে ১১টায় শপথপর্ব শুরু হয়ে শেষ হয় প্রায় দুপুর ১২টার আগেই। অনুষ্ঠান শুরুর অনেক আগে থেকেই ব্রিগেড ময়দান বিজেপি সমর্থকদের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে যায়। বাঙালিয়ানার আবহ তুলে ধরতে ঝালমুড়ি ও মিষ্টির স্টলও ছিল বিশেষ আকর্ষণ।
শপথের পর জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধা জানান শুভেন্দু। সেখানে তিনি বলেন, “বাংলা ও বাঙালির সংস্কৃতি কবিগুরুর চেতনায় এগোবে। বাংলার অনেক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির পুনর্গঠনই আমাদের লক্ষ্য।”
পরে বিধানসভায় গিয়ে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও ডিজির সঙ্গে বৈঠক করেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথের দিনক্ষণ নির্ধারণ হয়। আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবার সেই শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
যদিও এর আগে শুভেন্দু ঘোষণা করেছিলেন, রাজ্যের প্রশাসনিক কাজ আর নবান্ন থেকে চলবে না; সরকারের মূল সচিবালয় ফিরবে ঐতিহাসিক মহাকরণে। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর অব্যবহৃত থাকার কারণে মহাকরণ পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। ফলে আপাতত নবান্ন ও বিধানসভার অস্থায়ী সচিবালয় থেকেই প্রশাসনিক কাজ চালানো হবে।
ইতোমধ্যে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে বদল আনা হয়েছে। মমতার নেমপ্লেট সরিয়ে সেখানে বসানো হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নাম। নতুন করে তৈরি হয়েছে র্যাম্পও।
সবচেয়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার। গত ১৫ বছর যে চেয়ারে বসতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই চেয়ারে বসবেন না শুভেন্দু। শুক্রবার রাতেই সেই কাঠের চেয়ার সরিয়ে বিরোধী দলনেতার ঘরে পাঠানো হয়েছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর জন্য আলাদা চেয়ার রাখা হয়েছে বিধানসভায়।
