পশ্চিমবঙ্গে সোমবার পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের সম্ভাবনা, হতে পারে দপ্তর বণ্টন
ছবি-সংগৃহীত
শুভজিৎ পুততুন্ড, কলকাতা
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬ | ২০:৩৬ | আপডেট: ১০ মে ২০২৬ | ২০:৪৪
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন হতে পারে সোমবার। একইদিনে নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনও হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের বাকি সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।
গত শনিবার নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম দফায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু। তবে মন্ত্রিসভার বাকি সদস্য কারা হচ্ছেন, তা নিয়ে এখনো রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে।
সূত্রের খবর, সোমবার লোকভবনে (পূর্বতন রাজভবন) রাজ্যপাল আর এন রবি নতুন মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। একইদিনে মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনের ঘোষণাও হতে পারে।
এদিকে সোমবারই প্রশাসনিক তৎপরতায় ব্যস্ত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুপুর ১২টা নাগাদ নবান্ন সভাঘরে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন তিনি। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের।
এছাড়াও জেলার প্রশাসনিক কাজকর্ম পর্যালোচনায় জেলাশাসকদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। বিকেলে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গেও বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। ওই বৈঠকে ডিজি, এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা), কলকাতা পুলিশের কমিশনারসহ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা যায়।
প্রশাসনিক বৈঠক ঘিরে নবান্ন ও আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রোববার কলকাতা পুলিশের কমিশনার, হাওড়া সিটি পুলিশের কমিশনারসহ একাধিক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা নবান্ন সভাঘর ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। প্রবেশদ্বার, পার্কিং এলাকা, সভাস্থল এবং ভিভিআইপি চলাচলের রুট খতিয়ে দেখা হয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদেরও প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে মঙ্গলবার প্রোটেম স্পিকার নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই পদে বিজেপির প্রবীণ বিধায়ক তাপস রায় শপথ নিতে পারেন। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাজ্যপাল আর এন রবি। এরপর বুধবার ও বৃহস্পতিবার বিধানসভার নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আগামী শুক্রবার নবান্নে বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলেও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, সদ্যসমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন।
কালীঘাট থেকে রাজনীতির কেন্দ্র এখন কাঁথি
২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। এরপর দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল কালীঘাট। নির্বাচনে জয়ের পর দলীয় কর্মী-সমর্থক, শিল্পী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণির মানুষের ভিড় জমত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে।
তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এখন আলোচনার কেন্দ্র পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পৈত্রিক বাসভবন ‘শান্তিকুঞ্জ’-এ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ ও দলীয় সমর্থকেরা।
শপথগ্রহণ শেষে গভীর রাতে কলকাতা থেকে কাঁথির বাড়িতে ফেরেন শুভেন্দু। রাতেই সমর্থকদের ভিড় জমে যায় সেখানে। রবিবার সকাল হতেই ফুল ও মিষ্টি হাতে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন অসংখ্য মানুষ। স্থানীয়দের কাছে এখনও তিনি ‘বুবাইদা’ হিসেবেই পরিচিত। ফলে শান্তিকুঞ্জে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
থামছে না ভোট-পরবর্তী সহিংসতা
নতুন সরকারের শপথের পরদিনই আবারও ভোট-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ সামনে এসেছে। হুগলির গোঘাটে তৃণমূল কংগ্রেস নেতার অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত সহদেব বাগ গোঘাটের নকুণ্ডা এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য চায়না বাগের স্বামী। রবিবার সকালে দলীয় কার্যালয়ের পেছন থেকে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরিবারের অভিযোগ, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। শনিবার রাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আর ফেরেননি তিনি। সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
যদিও বিজেপির দাবি, তারা কোনওভাবেই হিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হবে বলেই জানিয়েছে প্রশাসন।
- বিষয় :
- বিজেপি
- কলকাতা
- পশ্চিমবঙ্গ
