ক্রমাগত নেতা পরিবর্তন ক্ষতিকর: স্টারমার
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ | ১১:৪৫ | আপডেট: ১২ মে ২০২৬ | ১১:৪৫
পদত্যাগের চাপে থাকা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ‘টোরিদের অধীনে ক্রমাগত নেতা পরিবর্তনের বিশৃঙ্খলা যুক্তরাজ্যের জন্য ক্ষতিকর। এর মূল্য দিতে হয়েছে শ্রমজীবী মানুষকে। দেশের বিপুল ক্ষতি ডেকে এনেছে।’ সোমবার এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘যে পরিবর্তনের জন্য আমরা নির্বাচিত হয়েছিলাম এবং এই দেশকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমারও আছে। আমি তা পূরণ করব।’
স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির অভাবনীয় পরাজয়ের পর ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সংসদ সদস্যরা তাঁকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। এ অবস্থায় স্টারমার তাঁর রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। যদিও তিনি ঘোষণা করেছেন, যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে তিনি প্রস্তুত।
পরাজয়ের দায়ভার গ্রহণ করে লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন কিয়ার স্টারমার। তিনি বলেন, ‘আমরা বড় চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী ব্রিটেন গড়ে তুলব। এ জন্য লেবার পার্টিকে শক্তিশালী করতে কাজ করব।’
নির্বাচনে পরাজয়ের পেছনে লেবার পার্টির ভুল ছিল– স্বীকার করেন স্টারমার। তবে তিনি যুক্তি দেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়াসহ তাদের বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো সঠিক ছিল। তিনি স্বাস্থ্য খাতে (এনএইচএস) রোগীজট ও শিশু দারিদ্র্য কমানোর কৃতিত্ব দাবি করেন। অভিবাসনের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এই খাতের ভিত্তি এখন মজবুত।
স্টারমার বলেন, আমরা শুধু বিপজ্জনক সময়েরই মুখোমুখি নই, বরং বিপজ্জনক প্রতিপক্ষেরও মুখোমুখি। তিনি লেবার পার্টিকে রাজনৈতিক ক্ষমতার একটি মূলধারার দল হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যেসব দেশ আমাদের স্বার্থের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি একমত, তাদের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানোই যুক্তরাজ্যের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত।
বিবিসি জানায়, গত সপ্তাহের নির্বাচনে পরাজয়ের পর লেবার পার্টি ইংল্যান্ডে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কাউন্সিলর হারিয়েছে। বিজয়ী প্রার্থী বেশির ভাগই রিফর্ম ইউকে কিংবা গ্রিনস পার্টির নেতা। লেবার পার্টির এমপি ক্যাথরিন ওয়েস্ট অন্য কাউকে স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। ওয়েলসে ফার্স্ট মিনিস্টার এলুনেড মরগান নির্বাচনে নিজ আসন হারিয়েছেন। ফলে অঞ্চলটিতে দলটির ২৭ বছরের ক্ষমতার অবসান ঘটেছে। অন্যদিকে স্কটল্যান্ডে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে এবং লেবার পার্টি দ্বিতীয় হয়েছে।
