মার্কিন প্রেসিডেন্টের বেইজিং সফর
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে চীনকে চাপ দেবেন ট্রাম্প
দ্য স্ট্রেইট টাইমসের প্রতিবেদন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ | ১২:০২
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ইরান বিষয়ে বেইজিংয়ের নীতি নিয়ে চাপ দেবেন। সেই সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে বেশ কিছু বিষয় চূড়ান্ত করবেন। আলোচনার টেবিলে থাকবে তাইওয়ান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো বিষয়ও।
বেইজিংয়ে ট্রাম্পের এ রাষ্ট্রীয় সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করার কয়েক ঘণ্টা আগে গত ১০ মে ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা এসব নিশ্চিত করেছেন। গতকাল সোমবার দ্য স্ট্রেইট টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। এতে বলা হয়, বাণিজ্য ও ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ নিয়ে তীব্র মতবিরোধের মধ্যে ট্রাম্প ও শির আগামী ১৪ ও ১৫ মে বেইজিংয়ে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। ইরানের বৃহত্তম তেল ক্রেতা ও অন্যতম প্রধান কূটনৈতিক সমর্থক চীন।
৯ বছর পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের চীন সফরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি হিসেবে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ১৩ মে সিউলে তাঁর চীনা প্রতিপক্ষ হে লিফেংয়ের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের আলোচনায় মিলিত হবেন বলে উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সম্মেলন নিয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরানকে চীনের সরবরাহ করা রাজস্ব, অস্ত্র রপ্তানির মতো বিষয় শীর্ষ সম্মেলনে আলোচনায় থাকবে।
তৃতীয় মাসে চলা ইরান যুদ্ধ বিশ্বের দুটি বৃহত্তম অর্থনীতি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যখন তারা সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে ও একটি নাজুক বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে চাইছেন। ইরানের তেল কেনা বা ইরানকে স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্র চীনের একাধিক কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। পাশাপাশি যুদ্ধ বন্ধের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ক্রমেই চাপ বাড়ছে। কারণ, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে অভূতপূর্ব জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, দুই নেতা ‘চীন-মার্কিন সম্পর্ক এবং বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়ন সম্পর্কিত প্রধান বিষয়’ নিয়ে মতবিনিময় করবেন। বেইজিংয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে গতকাল তিনি বলেন, চীন সমতা, সম্মান ও পারস্পরিক সুবিধার নীতি সমুন্নত রাখতে, সহযোগিতা প্রসারিত করতে, মতপার্থক্য সামাল দিতে এবং পরিবর্তনশীল বিশ্বে আরও স্থিতিশীলতা ও নিশ্চয়তা আনতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক।’
একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে সহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়ে চীন বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি যৌথ অভিযানে একটি আন্তঃসীমান্ত মাদক পাচার নেটওয়ার্ক ভেঙে দিয়েছে। গত এপ্রিলের শুরুতে দুই দেশজুড়ে চালানো অভিযানে পাঁচজন সন্দেহভাজনকেও আটক করা হয়।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের আলোচ্যসূচিতে থাকবে তাইওয়ানও। কিন্তু স্বশাসিত দ্বীপটির প্রতি মার্কিন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে না। বেইজিং তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে। এ দ্বীপটিকে তারা নিজ ভূখণ্ড বলে মনে করে। পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে এও ঘোষণা করতে বলেছে– তারা যেন তাইওয়ানের স্বাধীনতার ‘বিরোধিতা’ করে। গত এপ্রিলে তাইওয়ানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেন, ট্রাম্প ও শির মধ্যকার আলোচনায় তাইওয়ানকে ‘আলোচ্যসূচিতে’ রাখা হতে পারে।
গত ১০ মে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ ও এবং বিষয়ে চীনের সঙ্গে যোগাযোগের একটি সম্ভাব্য নতুন মাধ্যম নিয়েও আলোচনা হবে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শি ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে আলোচনা করেন। এর মধ্যে এ অঙ্গীকারও অন্তর্ভুক্ত ছিল যে– তাদের কোনো দেশই পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ এআই কর্মসূচির হাতে তুলে দেবে না।
- বিষয় :
- ডোনাল্ড ট্রাম্প
- চীন
- যুক্তরাষ্ট্র
- শি জিনপিং
