ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

লেবার পার্টিতে বড় বিভাজন, পদত্যাগ না করতে অনড় স্টারমার

লেবার পার্টিতে বড় বিভাজন, পদত্যাগ না করতে অনড় স্টারমার
×

ফাইল ছবি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ | ২৩:০৮

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের শনির দশা যেন কাটছে না। ২০২৪ সালের ৫ জুলাই ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় নিয়ে ১৪ বছর পর ক্ষমতায় আসে লেবার পার্টি। প্রধানমন্ত্রী হন স্টারমার। শুরুতে সবকিছু ঠিকঠাকমতো চললেও এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁর সরকারের দূরত্ব বাড়তে শুরু করে।

স্টারমার গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন আগ্রাসনের বিরোধিতা করেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির সঙ্গে একমত হতে অস্বীকৃতি জানান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়ারও পক্ষপাতি নন স্টারমার।

প্রশ্ন উঠছে, ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও মেরুদণ্ড সোজা করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়াই কি মানবাধিকার আইনজীবী থেকে রাজনীতিতে আসা স্টারমারের জন্য কাল হলো? রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে জটিল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। পদে থাকার জন্য তাঁকে লড়াই করতে হচ্ছে। এ লড়াই কেবল বিরোধীদের সঙ্গেই নয়, নিজ দলের অভ্যন্তরেও রয়েছে। লেবার পার্টিরই অনেক মন্ত্রী তাঁর পদত্যাগে সোচ্চার হচ্ছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল মঙ্গলবার ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের পদত্যাগের একটি সময়সূচি ঘোষণার জন্য অনুরোধ করছেন। কিন্তু এর আগে সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভা বৈঠকে স্টারমার বলেন, তাঁর পদত্যাগ করার কোনো ইচ্ছা নেই। পাশাপাশি তিনি সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের লেবার নেতা হিসেবে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে চ্যালেঞ্জের আহ্বান জানান।

দলের নিয়ম অনুযায়ী, স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য এখনও কোনো এমপি আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেননি। এ ক্ষেত্রে ওই এমপির জন্য ৮১ জন সহকর্মী বা লেবার এমপিদের ২০ শতাংশের সমর্থন প্রয়োজন হবে। বৈঠকের পর আবাসন মন্ত্রী স্টিভ রিড এবং কর্ম ও পেনশন মন্ত্রী প্যাট ম্যাকফ্যাডেনসহ প্রধান মিত্ররা সাংবাদিকদের জানান, তারা স্টারমারকে সমর্থন অব্যাহত রাখবেন। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, যাকে নেতৃত্বের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে, ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করেননি।

সূত্র জানায়, লেবার পার্টির অন্তত ৮০ জন এমপি প্রকাশ্যে কিয়ার স্টারমারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে, অথবা একটি প্রস্থানের সময়সূচি তৈরি করতে অনুরোধ করেছেন। সম্প্রদায়বিষয়ক মন্ত্রী মিয়াট্টা ফানবুলেহ এর আগে সরকারের প্রথম সদস্য হিসেবে পদত্যাগ করেন। দলের অভ্যন্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পাশাপাশি স্টারমারের সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনারকে দেখা হচ্ছে। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামও সমর্থন পেয়েছেন। কিন্তু নেতা পদে দাঁড়াতে হলে তাঁকে এমপি হতে হবে। এর জন্য আরও দীর্ঘ প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে তাঁকে।

তবে আশপাশে এত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে স্টারমার টের পাচ্ছেন, তাঁকে ঘিরে কার্যত জাল বাঁধছে মাকড়সা। নিজের অবস্থানকে সুদৃঢ় করার প্রয়াসে তিনি গত সোমবার একটি ভাষণ দেন। বিবিসি লিখেছে, এ পদক্ষেপ হিতে বিপরীত হয়েছে। কারণ, এর পরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানানো লেবার এমপিদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকে।

এমপিদের মধ্যে এ বিদ্রোহটি গত সপ্তাহে লেবার পার্টির জন্য একটি বিপর্যয়কর নির্বাচনের পর ঘটেছে, যেখানে দলটি ইংল্যান্ডজুড়ে স্থানীয় নির্বাচনে প্রায় দেড় হাজার কাউন্সিলর হারিয়েছে। দলটি ওয়েলসেও ক্ষমতাচ্যুত হয় এবং স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফল করে। শোচনীয় জনমত জরিপের ফলাফল এবং পিটার ম্যান্ডেলসনকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের মধ্যে এ নির্বাচনগুলোকে কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল, যা কিছু এমপিকে তাঁর বিচারবুদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে।

আরও পড়ুন

×