নেতানিয়াহুর গোপন সফরের কথা কেন অস্বীকার করছে আমিরাত
আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: আইআরএনএ
টিওআই, এনপিআর ও আলজাজিরা
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ১৪:৩৯ | আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ | ১৫:০৩
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলার মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার নেতানিয়াহু নিজেই এমন তথ্য দিয়েছেন। তবে আমিরাতের কর্তৃপক্ষ এমন দাবিকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছে।
নেতানিয়াহু জানান, চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় তিনি গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সফর করেছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই বৈঠকের মাধ্যমে ইসরায়েল ও আবুধাবির সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন হয়েছে। বুধবার বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে আমিরাতের রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক সক্ষমতা জোরদারে সহায়তা করতে ইসরায়েলের দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানও দেশটিতে গোপন সফর করেছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরায়েল (টিওআই) জানিয়েছে, গত ২৬ মার্চ ওমান সীমান্তের কাছের একটি স্থানে নেতানিয়াহু ও বিন জায়েদ বৈঠক করেন। বৈঠকটি কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়।
তবে এমন তথ্য প্রকাশের পর আমিরাতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্কে গোপনীয়তার কিছু নেই। এটি আব্রাহাম অ্যাকর্ডস-এর কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হয়, কোনো অস্বচ্ছ বা অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে নয়।’ বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আমিরাতের কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত, যেকোনো সফরের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
কেন অস্বীকার করছে
আমিরাত সফরের তথ্য কেন অস্বীকার করছে তা স্পষ্ট নয়। তবে মার্কিন ও কাতারভিত্তিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দুটি বিষয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
মার্কিন গণমাধ্যম এনপিআর তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির কার্যকর হওয়ার পরও গত মাসে আমিরাতকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়তে হয়েছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে আবুধাবি। তারা দাবি করছে, ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য আমিরাত এখনো উন্মুক্ত ও নিরাপদ।
আমিরাত ইসরায়েলি সামরিক প্রতিনিধি দলের সফরের বিষয়টিও অস্বীকার করেছে। সম্প্রতি ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি দাবি করেছিলেন, আমিরাতে ‘আয়রন ডোম’ বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য জনবল পাঠিয়েছে তেল আবিব।
আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে তথাকথিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ স্বাক্ষরের পর থেকে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল এবং বেশ কয়েকটি আরব রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হয়।
ফিলিস্তিনের নেতারা এই চুক্তিকে তাদের ‘পিঠে ছুরিকাঘাত’ হিসেবে অভিহিত করে নিন্দা জানিয়েছিলেন। ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ডিসিতে আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং নেতানিয়াহু আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন।
সে সময় চুক্তিটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল যে, এর বিনিময়ে ইসরায়েল জর্ডান উপত্যকাসহ অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন অংশ দখলের পরিকল্পনা স্থগিত রাখবে। কিন্তু এরপর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় একটি গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরু করে। অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননে প্রায় প্রতিদিন প্রাণঘাতী অভিযান ও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে নেতানিয়াহু এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলছেন।
