ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

‘ঈশ্বর ট্রাম্পকে বেছে নিয়েছেন’- যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি উদ্যোগে গণপ্রার্থনা

‘ঈশ্বর ট্রাম্পকে বেছে নিয়েছেন’- যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি উদ্যোগে গণপ্রার্থনা
×

গণপ্রার্থনায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়। রোববার ওয়াশিংটনে। ছবি: এএফপি

এএফপি

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ | ১৪:৩৪

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় রোববার বৃহৎ এক গণপ্রার্থনা হয়েছে। এর আয়োজক ছিল হোয়াইট হাউস। বক্তব্য দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ তাঁর প্রশাসনের শীর্ষ মন্ত্রীরা। সমালোচকেরা এই আয়োজনকে ‘খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদে’র একটি প্রদর্শন হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি রাষ্ট্র ও চার্চের (ধর্ম) পৃথক থাকার নীতিকে ক্ষুণ্ন করেছে।

আয়োজনটি করা হয় আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, খ্রিষ্টীয় আদর্শের ওপর ভিত্তি করে এই দেশ গড়ে উঠেছিল। সেই চেতনাকে পুনরুজ্জীবিত করাই আয়োজনের লক্ষ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে রাষ্ট্র ধর্ম প্রতিষ্ঠার ওপর স্পষ্টভাবে নিষেধাজ্ঞা আছে। পাশাপাশি যেকোনো ধর্মীয় বিশ্বাস প্রকাশের স্বাধীনতাকেও মার্কিন সংবিধান সুরক্ষা দেয়।

রোববার ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল মল প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত সমাবেশে আগতরা যাজক ও সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্য শোনেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দেন। সংক্ষিপ্ত এক ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাইবেলের একটি অংশ পাঠ করেন। সেখানে বলা হয়েছে, ‘মানুষ যদি সৃষ্টিকর্তাকে খোঁজে এবং তাদের পাপের পথ থেকে ফিরে আসে, তবে সৃষ্টিকর্তা তাদের ভূমিতে সমৃদ্ধি ফিরিয়ে দেন।’

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন সমাবেশে দেশের ভেতরে থাকা ক্ষতিকর আদর্শ থেকে মুক্তির প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, ‘এই মহান জাতিটির (আমেরিকান) নৈতিক ও আধ্যাত্মিক পরিচয়ের ওপর আঘাত আসতে দেখেছি। এসব থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য আমরা সৃষ্টিকর্তার শরণাপন্ন হচ্ছি।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আমেরিকান ও খ্রিষ্টীয় পরিচয়কে এক সুতোয় গাঁথার প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। কট্টরপন্থী ইভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিষ্টানেরা ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান সমর্থক হিসেবে পরিচিত। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিজেও অতি-রক্ষণশীল একটি ইভাঞ্জেলিক্যাল চার্চের সদস্য। ইরান যুদ্ধ নিয়ে তাঁর দেওয়া বক্তব্যগুলোতে যুদ্ধংদেহী মনোভাব ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ দেখা গেছে।

গণপ্রার্থনায় অংশগ্রহণকারীরা। ছবি: এএফপি

সমাবেশে ভার্জিনিয়ার যাজক গ্যারি হ্যামরিক উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বন্ধুরা, আজ আমরা একটি আধ্যাত্মিক যুদ্ধের মধ্যে আছি। এটি আমেরিকার আত্মার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।’

‘ঈশ্বর ট্রাম্পকে বেছে নিয়েছেন’
সমাবেশে যোগ দেওয়া নর্থ ক্যারোলাইনার বাসিন্দা জিনা ডবিন্স (৬৭) এএফপিকে বলেন, ‘দেশকে ঈশ্বরের কাছে উৎসর্গ করতে এসেছি। আমাদের দেশ অনেক ক্ষেত্রেই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে।’

সারাহ টাইসন নামের আরেকজন সমাবেশে ‘যিশু রক্ষা করেন’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, একটি নতুন আধ্যাত্মিক জাগরণের মধ্য দিয়ে জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ট্রাম্পকে ঈশ্বর নিজে বেছে নিয়েছেন। 

যুক্তরাষ্ট্রে এর আগেও ধর্মীয় সমাবেশ হয়েছে। আগের প্রেসিডেন্ট ও প্রশাসনের কর্মকর্তারাও তাতে অংশ নেন। তবে রোববারের আয়োজনের পরিধি ও প্রশাসনের শীর্ষ মন্ত্রীদের উপস্থিতির ঘটনা বিষয়টিকে ব্যতিক্রমী করে তুলেছে। টেক্সাসের খ্রিষ্টীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেলর ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক স্যাম পেরি বলেন, এই আয়োজনে ট্রাম্প প্রশাসনের সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি আগের যেকোনো আয়োজনের চেয়ে আলাদা।

এর আগে, ফক্স নিউজের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে স্পিকার মাইক জনসন ধর্মকেন্দ্রিক জাতীয়তাবাদ সংক্রান্ত সমালোচনার জবাব দেন। তিনি ‘খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদ’ শব্দটিকে একটি নতুন ও নেতিবাচক ‘টার্ম’ হিসেবে উল্লেখ করেন। বলেন, যারা খ্রিষ্টানদের কণ্ঠস্বর ও প্রভাবকে স্তব্ধ করতে চায়, তারাই এই শব্দ ব্যবহার করছে।

আরও পড়ুন

×