ইসরায়েলের গণহত্যা
গাজায় ত্রাণবাহী নৌবহর আটকে দিল ইসরায়েল
ফাইল ছবি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ | ০৪:৩০
সাইপ্রাস উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজামুখী একটি ত্রাণবহরে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এ সময় বেশ কয়েকটি নৌযান ও শতাধিক মানবাধিকার কর্মীকে আটক করা হয়। ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের আন্তর্জাতিক ওই মানবিক মিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার দিকে যাওয়ার সময় গতকাল সোমবার ইসরায়েলি সেনারা তাদের নৌযানে উঠে পড়ে এবং যাত্রায় বাধা দেয়।
সংবাদমাধ্যম এপি জানায়, গাজার ওপর ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের নৌ অবরোধ ভাঙতে গত সপ্তাহে তুরস্কের মারমারিস বন্দর থেকে একটি বহর রওনা হয়। বহরে ৫০টির বেশি নৌযান ও ৪৫টি দেশের প্রায় ৫০০ মানবাধিকার কর্মী ছিলেন। আয়োজকদের দাবি, গাজা উপকূল থেকে প্রায় ২৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকতেই তাদের অন্তত ২০টি নৌযান আটকে দেয় ইসরায়েল। এ সময় প্রায় ১০০ জন মানবাধিকার কর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
এই অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস এবং তুরস্ক। তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘জলদস্যুতা’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে অভিযান বন্ধ ও তাদের নাগরিকদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে হামাস একে ‘অপরাধ’ বলে উল্লেখ করে অবরোধ তুলে নিতে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে ওই অভিযানের প্রশংসা করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গাজায় হামাসের ওপর আরোপিত বিচ্ছিন্নতা ভাঙার একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়েছে।’
গণহত্যা রুখতে জাতিসংঘের আহ্বান
গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো অভিযান ও হত্যাকে গণহত্যা বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ। ইসরায়েলকে এই গণহত্যা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক কার্যালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। অনেক ক্ষেত্রে এসব কর্মকাণ্ড যুদ্ধাপরাধ ও অন্যান্য নৃশংস অপরাধের শামিল।
২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৬ ফিলিস্তিনি
গত অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪০ জন আহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৮৭৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং দুই হাজার ৬০২ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ৭৬৯ এবং আহতের সংখ্যা হয়েছে এক লাখ ৭২ হাজার ৭০৪।
