ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের ক্ষমতা সীমিতের উদ্যোগ এক ধাপ এগুলো
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি
এএফপি ও আরটি
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ১৩:০৫ | আপডেট: ২০ মে ২০২৬ | ১৩:০৮
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে অর্জন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন সময়ে মার্কিন সিনেটে ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রস্তাব পাসের ক্ষেত্রে একধাপ অগ্রগতি হয়েছে।
যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার ওপর আলোচনা হবে কি না তা নির্ধারণ করতে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সিনেটে ভোটাভুটি হয়। এতে আলোচনা করার পক্ষে ৫০ ও বিপক্ষে ৪৭টি ভোট পড়ে। রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ সিনেটে প্রস্তাবটি প্রতীকী মনে হলেও এটিকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ, ক্ষমতাসীন দলের আধিক্য থাকা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাব এক ধাপ এগুনোটা ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এক ধরনের সংকেত।
এই প্রস্তাব পাস হলে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাত বন্ধ করতে বাধ্য হবেন। তবে সত্যিকার অর্থে প্রেসিডেন্টের ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত ক্ষমতা সীমিত করতে হলে প্রস্তাবটি সিনেটের চূড়ান্ত ভোটে পাস হতে হবে। এরপর সেটি পাঠানো হবে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে প্রস্তাবটি বড় বাধার মুখে পড়বে।
প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়ার পর সবশেষ ধাপ হিসেবে প্রস্তাবটি প্রেসিডেন্টের দপ্তরে যাবে। ট্রাম্প যে নিজের ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব অনুমোদন দেবেন না তা প্রায় নিশ্চিত। তবে সিনেটে প্রস্তাবটির ওপর আলোচনা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এক ধাপ এগুনোটা দেখাচ্ছে, ট্রাম্পের নিজের দলের ভেতরই প্রেসিডেন্টের যুদ্ধক্ষমতা নিয়ে এক ধরনের অস্বস্তি আছে। ইরান যুদ্ধের কারণে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুতে টান পড়েছে। এখন পর্যন্ত যুদ্ধের আনুমানিক সরকারি ব্যয় ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
ক্ষমতাসীমিত করার প্রস্তাবটিতে ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই নীতি অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ বাঁধালে তা একটি নির্দিষ্ট সময় পর নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধের উদ্যোগ নিতে পারেন আইনপ্রণেতারা। ইরানে হামলার আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেননি। অনুমোদন ছাড়া একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ৬০ দিন অন্য দেশের ভূখণ্ডে সেনা মোতায়েন রাখতে পারেন।
