বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে বাড়ি ভাঙার নোটিশ পেলেন অভিষেক
ছবি: সংগৃহীত
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ১৭:৩২
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজা ও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে নোটিশ পাঠিয়েছে কলকাতা পৌরসভা (কেএমসি)। আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই বেআইনি অংশগুলো ভাঙা না হলে পৌরসভার বুলডোজার চলতে পারে তাঁর বাড়িতে।
পৌরসভার এই নোটিশকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড়ের মধ্যে যুক্ত হয়েছে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলার জেরে অভিষেকের গ্রেপ্তারির আশঙ্কাও।
কলকাতা পৌরসভা ৪০১ ধারায় জারি করা এই নোটিশে অভিষেকের কালীঘাট রোড এবং হরিশ চ্যাটার্জি রোডের (হরিশ মুখার্জি রোড) দুটি বাড়ির বিল্ডিং প্ল্যান জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
পৌরসভার অভিযোগ, নির্মাণগুলোতে প্ল্যান-বহির্ভূত অংশ রয়েছে। অতিরিক্ত নির্মাণের জন্য আদৌ অনুমতি ছিল কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। ৭ দিনের মধ্যে বেআইনি অংশগুলো নিজ উদ্যোগে ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাড়ির মালিক নিজে না ভাঙলে পৌরসভা কেন তা ভাঙবে না, তার সন্তোষজনক জবাব দিতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে পৌরসভা আইন মোতাবেক বুলডোজার চালাবে এবং এর সম্পূর্ণ খরচ বাড়ির মালিককে বহন করতে হবে।
তবে, দুটি নোটিশের কোনোটিই সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে পাঠানো হয়নি।
১২১, কালীঘাট রোডের বাড়ির মালিক হিসেবে নোটিশ দেওয়া হয়েছে অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। জানা যায়, আদতে বাড়িটি অভিষেকের হার্ডওয়্যার সংস্থার নামে।
১৮৮ এ, হরিশ মুখার্জি রোডের অভিষেকের বর্তমান বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’। এই বাড়ির মালিক হিসেবে নোটিশ দেওয়া হয়েছে অভিষেকের কোম্পানি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নামে।
কলকাতা পৌরসভার পরিচালন বোর্ড এখনো তৃণমূল কংগ্রেসের অধীনে এবং মেয়র স্বয়ং মমতা-ঘনিষ্ঠ ফিরহাদ হাকিম। এরপরেও অভিষেকের বাড়িতে নোটিশ যাওয়ায় দলের ভেতরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার কালীঘাটে ডেকে মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষের সঙ্গে কথা বলেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
চাপের মুখে ফিরহাদ হাকিম দাবি করেছেন, ‘এই বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। বেআইনি বাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্ত মেয়র নেন না, পৌরসভার কমিশনার পদাধিকার বলে এটি করতে পারেন।’
অন্যদিকে, রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, কোনো বেআইনি নির্মাণকে ছাড় দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যেই রাজ্যের একাধিক প্রান্তে বুলডোজার চলেছে।
তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন অভিষেকের ‘শান্তিনিকেতন’ বাড়িটি ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ছিল। ৮টি মেটাল ডিটেক্টর, লাগেজ স্ক্যানিং, ড্রপ গেট, এমনকি বাড়ির দিকে তাকানো বা ছবি তোলাও পুলিশের অলিখিত নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ছিল। কিন্তু বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সব নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়া হয়।
বাড়ি ভাঙার নোটিশের পাশাপাশি অভিষেকের আইনি সংকটও ঘনীভূত হয়েছে। ভোট প্রচারে হিংসা ছড়ানো এবং ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন সমাজকর্মী রাজীব সরকার।
পুলিশ মোট ৫টি ধারায় মামলা রুজু করেছে, যার মধ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১৯৬ ধারা (ঘৃণা ছড়ানো) এবং ৩৫১/২ ধারা (মৃত্যুর ভয় দেখানো ও হুমকি) জামিন অযোগ্য।
এ ছাড়া ১৯২ ধারা (দাঙ্গার উসকানি), ৩৫৩(১)(সি) ধারা (গুজব ছড়ানো) এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৩(২) ও ১২৫ ধারাও প্রয়োগ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার এই এফআইআর খারিজের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক। আগামী ২১ মে (বৃহস্পতিবার) বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
