বেইজিং সফরে রুশ প্রেসিডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার ইঙ্গিত শি-পুতিনের
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বুধবার বেইজিংয়ে। ছবি: ক্রেমলিস প্রেস
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ | ০২:২৩ | আপডেট: ২১ মে ২০২৬ | ০৩:২৫
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং সফররত রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বেইজিংয়ে এক শীর্ষ সম্মেলনে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাশাপাশি তারা বিশ্বজুড়ে ‘জঙ্গলের আইন’ ফিরে আসার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন।
বুধবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে চীন ও রাশিয়ার একটি যৌথ বিবৃতির প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। বিবৃতিতে দুই নেতা সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ারও সমালোচনা করেন, যা গত ফেব্রুয়ারিতে ভেস্তে যায়। তখন ট্রাম্প চুক্তিটি এক বছরের জন্য বাড়ানোর মস্কোর প্রস্তাবে সাড়া দিতে ব্যর্থ হন।
ট্রাম্পকে বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের আপ্যায়নের এক সপ্তাহ পর বুধবারের এ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। চীনের রাজধানীতে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। একটি সামরিক ব্যান্ড চীন ও রাশিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে নেতারা ক্রমবর্ধমান বিভক্ত বিশ্বব্যবস্থার মধ্যে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। রুশ গণমাধ্যম জানিয়েছে, পুতিন শি জিনপিংকে বলেছেন, ‘প্রতিকূল বাহ্যিক কারণগুলোর প্রেক্ষাপটেও আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা শক্তিশালী গতি প্রদর্শন করছে।’ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার ‘অটল সম্পর্কের’ প্রশংসা করেন। শি বলেন, ‘নানা প্রতিকূলতা ও বাধা সত্ত্বেও আমরা এমন এক অটুট স্থিতিস্থাপকতার সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা ও কৌশলগত সমন্বয়কে ক্রমাগত গভীর করতে সক্ষম হয়েছি।’
চীনের নেতা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন। তিনি পুতিনকে বলেন, আরও সংঘাত ‘অবাঞ্ছিত’ এবং একটি যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত জরুরি; পুনরায় সংঘাত শুরু করা আরও বেশি অনুচিত এবং আলোচনা চালিয়ে যাওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’
পৃথক এক যৌথ বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন ও জঙ্গলের আইনে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বলা হয়, ‘ঔপনিবেশিক যুগের চেতনায় কয়েকটি রাষ্ট্রের একতরফাভাবে বৈশ্বিক বিষয়াবলি পরিচালনা, পুরো বিশ্বের ওপর নিজেদের স্বার্থ চাপিয়ে দেওয়া এবং অন্যান্য দেশের সার্বভৌম উন্নয়ন সীমিত করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।’ ‘জঙ্গলের আইন’ কথাটি দ্বারা ‘জোর যার, মুল্লুক তার’ নীতিকে বোঝানো হয়।
শি ও পুতিনের আলোচনার প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে আরও ছিল– জ্বালানি খাত। এটাকে পুতিন রাশিয়া ও চীনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘অর্থনৈতিক সহযোগিতার চালিকাশক্তি’ বলে বর্ণনা করেন। বেইজিং থেকে আলজাজিরার ক্যাটরিনা ইউ জানান, দুই নেতা অর্থনীতি ও পর্যটন থেকে শুরু করে শিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায় ৪০টি চুক্তি সইয়ের পরিকল্পনা করলেও জ্বালানি নিরাপত্তাই পুতিনের অগ্রাধিকার ছিল।
ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় রাজস্বে বড় ধাক্কা লেগেছে রাশিয়ার। পুতিন এটা কাটিয়ে উঠতে চান।
- বিষয় :
- চীন
- যুক্তরাষ্ট্র
- ভ্লাদিমির পুতিন
- শি জিনপিং
