ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কলকাতায় জেআরসি বৈঠক সমাপ্ত

গঙ্গা চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুলেননি প্রতিনিধিরা

গঙ্গা চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুলেননি প্রতিনিধিরা
×

বৈঠকে যোগ দিতে প্রতিনিধিদের হোটেলে প্রবেশের দৃশ্য। ছবি: সমকাল

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ | ২১:২২

কলকাতায় শেষ হলো ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) ৯০তম বৈঠক। তবে বহুল আলোচিত এই গঙ্গা চুক্তির ভবিষ্যৎ ও পুনর্নবীকরণ নিয়ে বৈঠকের পর প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি দুই দেশের প্রতিনিধিরা। 

১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হতে চলায় এটি ছিল চুক্তি নবায়নের আগে জেআরসির সর্বশেষ বৈঠক। 

শুক্রবার কলকাতার নিউটাউনের ফেয়ারফিল্ড ম্যারিয়ট হোটেলে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে এই বৈঠক শুরু হয়। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শেষ হয়। 

বৈঠকে বাংলাদেশের ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জয়েন্ট রিভার কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার কাদীর। প্রতিনিধিদলে ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন, মো. আবু সৈয়দ, মো. শামসুজ্জামান, মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ ও মো. রুমানুজ্জামান। কূটনৈতিক পর্যায়েও বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেন। ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা। 

এর আগে বৃহস্পতিবার ফরাক্কা ব্যারাজ এলাকায় গঙ্গার জলপ্রবাহ নিয়ে যৌথ পর্যবেক্ষণে নামে দুই দেশের প্রতিনিধিদল। বেনিয়া গ্রামের ঘাটপাড়া মেলা গ্রাউন্ড সংলগ্ন অফিস থেকে গঙ্গার মূল স্রোত, ফরাক্কা ব্যারাজ, ভাগীরথী ও পদ্মা নদীর জলপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করা হয়। 

পাশাপাশি ফিডার ক্যানালেও জলপ্রবাহের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়। তবে এই পর্যবেক্ষণে কী তথ্য উঠে এসেছে, সে বিষয়েও প্রকাশ্যে কিছু জানানো হয়নি। ভারতীয় প্রতিনিধিরা একে ‘রুটিন অবজারভেশন’ বলেই উল্লেখ করেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন কিংবা নতুন কাঠামো নিয়ে বৈঠকের আলোচনায় বিষয়টি এসেছে। তবে এখানেই দুই দেশের অবস্থানে স্পষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে।

ফরাক্কা পয়েন্টের আগে ভারতের উজানে (ঝাড়খণ্ড, বিহার, উত্তর প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড) খাল দিয়ে প্রত্যাহার করা পানির হিসাবও গঙ্গার মূল প্রবাহের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।

ভারতের দাবি, বিগত ৩০ বছরে গঙ্গার চারপাশে জনবসতি বেড়েছে এবং নদীর নাব্যতা কমেছে। বাস্তব এই পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়ে কেবল ফারাক্কা পয়েন্টের প্রবাহকেই মাপকাঠি হিসেবে ধরতে হবে। 

বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, গঙ্গার ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম প্রবাহ হলে দুই দেশ সমানভাবে (৫০-৫০) পানি ভাগ করে নেবে। অর্থাৎ, বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার কিউসেক পর্যন্ত পানি পাবে।

যদি ৭০ হাজার কিউসেকের বেশি এবং ৭৫ হাজার কিউসেকের কম প্রবাহ হয়, তাহলে বাংলাদেশ স্থায়ীভাবে ৩৫ হাজার কিউসেক পানি পাবে এবং অবশিষ্ট অংশ পাবে ভারত।

যদি পানির প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেক বা তার বেশি হয়, তাহলে ভারত ৪০ হাজার কিউসেক পাবে এবং অবশিষ্ট সম্পূর্ণ অংশ পাবে বাংলাদেশ। 

আরও পড়ুন

×