কানাডার অর্থনীতিতে অপ্রত্যাশিত মন্দা, বাড়ছে উদ্বেগ
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ সরকারি ব্যয় এবং ঋণ ব্যবস্থাপনার ক্রমবর্ধমান চাপ আগামী মাসগুলোতে কানাডার অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
কানাডা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ | ১১:২৩
কানাডার অর্থনীতিতে অপ্রত্যাশিত মন্দার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির বাজেট ঘাটতি বেড়ে ৫৫ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা অর্থনীতিবিদদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কানাডার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সরকারি রাজস্ব আয়ের তুলনায় ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি বেশি হওয়ায় এ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মোট প্রোগ্রাম ব্যয় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। কর ও শুল্ক থেকে রাজস্ব আয় বাড়লেও তা ব্যয়ের চাপ সামাল দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ সরকারি ব্যয় এবং ঋণ ব্যবস্থাপনার ক্রমবর্ধমান চাপ আগামী মাসগুলোতে কানাডার অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বলছে, টানা দুই প্রান্তিকে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) সংকুচিত হওয়ায় দেশটির অর্থনীতি প্রযুক্তিগত মন্দা বা ‘টেকনিক্যাল রিসেশন’-এ প্রবেশ করেছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে কানাডার অর্থনীতি শূন্য দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে অর্থনীতি ১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল। যদিও বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছিল প্রবৃদ্ধি হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি এবং চলমান বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা কানাডার অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ কমেছে, কর্মসংস্থানের গতি শ্লথ হয়েছে এবং ভোক্তাদের আস্থাও দুর্বল হয়েছে।
এরই মধ্যে কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে। একই সঙ্গে বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগে স্থবিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে কিছু অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, এপ্রিল মাসে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সামান্য ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা আগামী মাসগুলোতে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, কানাডার অর্থনীতি কত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ শুল্কনীতির ওপর।
অন্যদিকে ব্যাংক অব কানাডা জানিয়েছে, দেশের আর্থিক ব্যবস্থা এখনো স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আর্থিক খাতে ঝুঁকি ও দুর্বলতা বেড়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২০২৬ সালের ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, কানাডার ব্যাংকগুলো আগের তুলনায় সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় বেশি সক্ষম। তবে শেয়ারবাজারের উচ্চ মূল্যায়ন, করপোরেট ঋণ বৃদ্ধি এবং হেজ ফান্ডগুলোর অতিরিক্ত ঋণনির্ভর বিনিয়োগ নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।
ব্যাংক অব কানাডা সতর্ক করে বলেছে, একাধিক ঝুঁকি একযোগে সক্রিয় হলে বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
