ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে কি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হবে
প্রয়াত দুই সর্বোচ্চ নেতার ছবি সংবলিত বিলবোর্ড। সোমবার তেহরানে। ছবি: এএফপি
টাইমস অব ইসরায়েল ও মেহর নিউজ
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ | ১৬:০৬ | আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ | ১৬:১১
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে তাদের আরও কয়েকদিন লড়াই চলতে পারে। এমনকি এটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেওয়ারও সম্ভাবনা আছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীও (আইআরজিসি) বলেছে, তারা সবকটি ফ্রন্টে বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক অভিযান চালানোর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধে বর্তমানে কাগজে-কলমে অস্ত্রবিরতি চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয়পক্ষকে হামলা বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইরানকে একটি চুক্তি করারও তাগিদ দিয়েছেন।
তবে আইডিএফের দাবি, সোমবারের হামলাগুলোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। ইতোমধ্যে, আইডিএফ-এর চিফ অব স্টাফ লেফট্যানেন্ট জেনারেল ইয়াল জামির সেন্টকম-এর প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে তিনবার কথা বলেছেন।
সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাত থেকে এ পর্যন্ত ইরান ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে অন্তত ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। সবগুলোই মাঝআকাশে প্রতিহত করা হয়েছে অথবা ফাঁকা জায়গায় গিয়ে পড়েছে। এছাড়া, ইয়েমেনের হুতিরাও দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে একটি প্রতিহত করা হয়েছে। দ্বিতীয়টি ইসরায়েলি ভূখণ্ড পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি।
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইসরায়েল এ পর্যন্ত ইরানে দুই দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে। রোববার রাতে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর কয়েকটি যুদ্ধবিমান পশ্চিম ও মধ্য ইরানের নয়টি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত হানে। সোমবার সকালে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সের তিনটি কারখানায় হামলা চালানো হয়েছে।
তেল আবিবের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সেন্টকমের সঙ্গে সমন্বয় করা হলেও এই হামলাগুলো শুধু ইসরায়েলই পরিচালনা করছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় না করেই ইসরায়েল কোনো পদক্ষেপ নেবে- এ কথা কেউ বিশ্বাস করে না। তাই উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে যেকোনো পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী থাকতে হবে।
আইআরজিসি যা বলছে
ইরান ইসরায়েলে চালানো এবারের অভিযানের নাম দিয়েছে ‘নাসর’। আইআরজিসির জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই অভিযান উৎসর্গ করা হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতির বরাত দিয়ে মেহর নিউজ জানিয়েছে, দেশের তিনটি স্থানে রাডার স্থাপনাগুলোতে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে এই অভিযান শুরু হয়েছে। এর আওতায় ইসরায়েলের কৌশলগত বিমান ঘাঁটি নেভাতিম ও তেল নোফের প্রধান কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও বলেছে, ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দ্রুত পাল্টা জবাব দেওয়া এবং লক্ষ্যবস্তুর পরিধি বড় করাটাই এই পর্যায়ের অভিযানের মূল বৈশিষ্ট্য। শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য পদক্ষেপ মাথায় রেখে কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সবকটি ফ্রন্টে আরও বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক অভিযান চালানোর জন্য আইআরজিসির সমস্ত যুদ্ধ ও অপারেশনাল ইউনিট সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
- বিষয় :
- ইরান-ইসরায়েল
- পাল্টাপাল্টি হামলা
- ইরান
- ইসরায়েল
