ঢাকা বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

উপগ্রহ চিত্রে প্রকাশ

ইরানের পানি সংকট, শুকিয়ে যাচ্ছে জলাশয়

৬৯ হাজার গ্রামের মধ্যে ৩১ হাজারই জনশূন্য

ইরানের পানি সংকট, শুকিয়ে যাচ্ছে জলাশয়
×

ছবি : সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ | ০৫:০০

অনেক ইরানির কাছে এখন যুদ্ধের চেয়েও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে পানি সংকট। বছরের পর বছর ধরে চলা খরা ও অনাবৃষ্টির কারণে দেশটিতে এমনিতেই পানির ঘাটতি ছিল, তার ওপর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এখন শুকিয়ে যাচ্ছে নদী, হ্রদসহ বিভিন্ন জলাশয়। এর মধ্যে যুদ্ধে পানি শোধন প্লান্টের মতো অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের তালিকায় পানির ‘উচ্চ সংকটে’ থাকা দেশের তালিকায় রয়েছে ইরান। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপগ্রহ চিত্রে এই সংকটের স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। একসময় মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম নোনাপানির হ্রদ ছিল ইরানের উর্মিয়া হ্রদ।

 নব্বইয়ের দশকে প্রায় ছয় হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই হ্রদটি কমতে কমতে এখন মাত্র ৫৮১ বর্গকিলোমিটারে এসে ঠেকেছে, যা আগের তুলনায় মাত্র ১০ শতাংশ। শুধু উর্মিয়া নয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লার, লাতিয়ান ও মামলু বাঁধের পানির স্তরও আশঙ্কাজনকভাবে নেমে গেছে। এমনকি একসময়ের বিখ্যাত জায়ান্দেহরুদ নদীটিও এখন প্রায় মরে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রমাগত খরা ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হচ্ছে। তার ওপর উর্মিয়া হ্রদে পানি সরবরাহকারী নদীগুলোর বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত ৬০টি বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এসব কারণে হ্রদটি এখন ধু-ধু লবণের মাঠে পরিণত হয়েছে।

একটি দেশের পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে ব্যবহার করা পানির সমপরিমাণ পানি বৃষ্টি বা অন্য উৎস থেকে আবার পূরণ হতে হয়। কিন্তু ইরান দীর্ঘদিন ধরেই এই ভারসাম্যের বাইরে। ইরানে সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৯১ শতাংশ) পানি ব্যবহৃত হয় কৃষি খাতে। ঘরোয়া কাজে ৭ শতাংশ এবং শিল্পে মাত্র ২ শতাংশ পানি ব্যবহৃত হয়। তবে ত্রুটিপূর্ণ সেচ ব্যবস্থার কারণে ফসলের ক্ষেতে পৌঁছানোর আগেই এই মূল্যবান পানির একটি বিশাল অংশ অপচয় হয়ে যায়।

পানির তীব্র অভাবে এখন বাসস্থান বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন ইরানিরা। দেশটির গ্রামীণ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ইরানের ৬৯ হাজার গ্রামের মধ্যে ৩১ হাজারই এখন সম্পূর্ণ জনশূন্য। বাস্তুচ্যুত এই মানুষগুলো তেহরান, মাশহাদ, ইস্পাহানের মতো বড় শহরগুলোতে ভিড় করছে। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এই শহরগুলোও এখন পানি সংকটে ভুগছে। অন্যদিকে, যারা গ্রাম ছাড়তে পারেননি, তাদের অবস্থাও শোচনীয়। সব মিলিয়ে ইরানের ৭০ শতাংশেরও বেশি গ্রাম কোনো না কোনোভাবে পানি সংকটের মুখোমুখি।

পারস্য উপসাগরের অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলো যেখানে পানের পানির জন্য সমুদ্রের পানি শোধনের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে ইরান তার প্রয়োজনের মাত্র ৩ শতাংশ পানি এই পদ্ধতিতে পায়। তাছাড়া, ইরানের এই শোধন প্লান্টগুলো মূলত দক্ষিণের উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত। ফলে তেহরান বা ইস্পাহানের মতো ভেতরের দিকের শহর এবং কৃষিপ্রধান অঞ্চলগুলো এই সুবিধা পায় না। খবর আলজাজিরার।

আরও পড়ুন

×