জাপানের পর এবার ভারতীয় আম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিল নেপাল
এর আগে গত মাসে জাপানও ভারতের কিছু জাতের আম আমদানি স্থগিত করেছিল। ছবি: সংগৃহীত
এনডিটিভি
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ | ১১:২৯ | আপডেট: ১০ জুন ২০২৬ | ১১:৫২
আমদানি করা চালানে অতিরিক্ত মাত্রায় রাসায়নিক কীটনাশক শনাক্ত হওয়ার পর ভারতীয় আম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নেপাল। নেপালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ সিদ্ধান্ত মূলত ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এবং সর্বোচ্চ অবশিষ্টাংশ সীমা মান বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগেই আনুষ্ঠানিক চেকপোস্ট দিয়ে প্রায় ১৫ দশমিক ৮ মেট্রিক টন আম, যার বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ রুপি, নেপালে প্রবেশ করেছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ বাণিজ্য সম্পর্ককে প্রভাবিত করার জন্য নয়, বরং নিয়ন্ত্রক ও মান যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত মাসে জাপানও ভারতের কিছু জাতের আম আমদানি স্থগিত করেছিল। সেখানে পরিদর্শনের সময় কীটনাশক নিয়ন্ত্রণ ও জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় ঘাটতি পাওয়া যায় বলে জানায় দেশটির কোয়ারেন্টাইন কর্তৃপক্ষ। ওই সিদ্ধান্তের কারণে আলফোনসো, কেসর, ল্যাংড়া ও বাঙ্গানাপল্লি জাতের প্রিমিয়াম আম রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
নেপালে নতুন বিধিনিষেধের ফলে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। জানকপুরধামসহ বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে দেশীয় উৎপাদিত আমই প্রধান সরবরাহ হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।
তবে ব্যবসায়ীদের মতে, স্থানীয় উৎপাদন দিয়ে সারা বছরের চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। ফল ও সবজি ব্যবসায়ী সমিতির নেতা ভুবনেশ্বর পুরবে জানান, গ্রীষ্ম মৌসুমে আমের চাহিদা অত্যন্ত বেশি থাকে এবং প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৫০ টন আম বাজারে আসে। তবে স্থানীয় উৎপাদন মাত্র দুই মাস স্থায়ী হওয়ায় আমদানি বন্ধ থাকলে ঘাটতি তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার চাইলে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে কঠোর কোয়ারেন্টাইন ও পরীক্ষার ব্যবস্থা জোরদার করতে পারে। নিরাপদ প্রমাণিত আম বাজারে প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘ সময় আমদানি বন্ধ থাকলে বাজারে সরবরাহ সংকট এবং দাম বৃদ্ধি ঘটতে পারে। ইতিমধ্যে কিছু এলাকায় আমের দাম বাড়তে শুরু করেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
- বিষয় :
- আমদানি
- আম
- নিষেধাজ্ঞা আরোপ
- নেপাল
