ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা হতে পারে রোববার: রয়টার্স
সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করতে পারেন ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | ২০:২৯ | আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ | ২০:৩৩
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বন্ধে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক আগামী রোববার স্বাক্ষর হতে পারে। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা আলোচনায় আছে। পশ্চিমা একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমন তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রটি জানায়, স্মারকের লিখিত বার্তা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এটি শনিবারের মধ্যে চূড়ান্ত হতে পারে। রোববার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এতে স্বাক্ষর করতে পারেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো স্থান নির্ধারণ করা হয়নি, তবে জেনেভাকে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সমঝোতার ক্ষেত্রে লেবানন নিয়ে ইরান তাদের আগের অবস্থানেই অনড় আছে। অর্থাৎ, তারা দেশটিতে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধের নিশ্চয়তা চায়। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্ভাব্য চুক্তি চূড়ান্ত করার ইঙ্গিত দেন। পূর্বঘোষিত হামলার পরিকল্পনা স্থগিতের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে একটি দারুণ সমঝোতায় পৌঁছেছি।’
শুক্রবার ইরানি কর্মকর্তারা যে শর্তগুলোর কথা বলেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে তেহরান দীর্ঘদিনের দাবিগুলোর বেশিরভাগই আদায় করতে যাচ্ছে। অন্যদিকে ট্রাম্প তাঁর প্রত্যাশিত লক্ষ্যগুলোর খুব কমই অর্জন করতে পারছেন। তাঁর অর্জনের মধ্যে থাকতে পারে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া। গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান জলপথটি বন্ধ রেখেছে।
ইরানের একটি সূত্র শুক্রবার রয়টার্সকে জানিয়েছে, খসড়া চুক্তি অনুযায়ী ইরানের তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। জব্দকৃত কয়েক বিলিয়ন ডলারের তহবিল ছাড় এবং বন্ধ করতে হবে লেবাননসহ সব ফ্রন্টের সংঘাত। বিনিময়ে ইরান কী দেবে, সে বিষয়ে সূত্রটি কিছু বলেনি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হতে পারে। যুদ্ধের শুরু থেকে ওয়াশিংটন দাবি করছে, তেহরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না। বিপরীতে ইরান বলেছে, তাদের অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা নেই।
ইরানের বার্তা সংস্থা মেহর জানিয়েছে, সমঝোতার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছাড় আছে। যেমন- ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের অঙ্গীকার এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানি অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন। অর্থাৎ, ক্ষতিপূরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা জমা দিতে হবে।
