ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

শান্তিচুক্তির খবরে কমলো তেলের দাম, বিশ্ব শেয়ারবাজারে বড় উত্থান

শান্তিচুক্তির খবরে কমলো তেলের দাম, বিশ্ব শেয়ারবাজারে বড় উত্থান
×

ছবি: সংগৃহীত

আল জাজিরা

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬ | ০৯:৩৪

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির ঘোষণার পর বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। দীর্ঘ চার মাসের সংঘাতের অবসানের খবরে স্বস্তি ফিরেছে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে। জ্বালানি তেলের দাম কমার পাশাপাশি বিশ্বের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে।

সোমবার দিনের শুরুতেই এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজারে শক্তিশালী ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যায়। জাপানের নিক্কেই-২২৫ সূচক ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক বৃদ্ধি পায় প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। এছাড়া তাইওয়ানের তাইএক্স সূচক ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স-২০০ সূচক প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী ছিল। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচকও দিনের শুরুতে প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে।

এই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে মার্কিন শেয়ারবাজারেও। নিয়মিত লেনদেন শুরুর আগেই এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার ১ শতাংশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসদাক ফিউচার ১ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

এএনজেড (ANZ)-এর এশিয়া গবেষণা বিভাগের প্রধান খুন গো বলেন, 'গত সপ্তাহের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ার পর থেকেই বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছিল। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বেড়েছে।'

শান্তিচুক্তির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৪০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।

রোববার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে চুক্তির ঘোষণা দিয়ে হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। তিনি লেখেন, 'বিশ্বের জাহাজগুলো, ইঞ্জিন চালু করুন। তেল সরবরাহ আবার শুরু হোক।'

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছিল, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল। অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণার পর পরিস্থিতির উন্নতির প্রত্যাশায় বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম কমে আসায় বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির চাপও কিছুটা কমতে পারে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য ইতিবাচক সংকেত।

তবে শান্তিচুক্তির ঘোষণার পরও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন নৌ-পরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞরা।

নরওয়েজিয়ান শিপ ওনার্স মিউচুয়াল ওয়ার রিস্কস ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সভেন রিংবাক্কেন বলেন, 'সংঘাতের কারণে হাজার হাজার জাহাজ এই অঞ্চলে এবং আশপাশের জলসীমায় আটকে রয়েছে। পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম চালালেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। এছাড়া সাগরে মাইন পাতা থাকলে তা অপসারণ করতেও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে।'

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শিপিং কোম্পানি সেফসি গ্রুপের চেয়ারম্যান এসভি আনচানও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তার ভাষায়, 'কাগজে-কলমে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সমুদ্রের মাইন অপসারণ, বিমা কোম্পানিগুলোর প্রতিক্রিয়া এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়ন-সবকিছু বিবেচনায় নিলে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে এক বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে।'

ইরানের বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির আওতায় লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি, ইরানের তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আটকে থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলারের তহবিল মুক্ত করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×