ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

ইআরএফের সেমিনারে এনবিআর চেয়ারম্যান

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কর বাড়ানো হয়নি

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কর বাড়ানো হয়নি
×

ছবি: সংগৃহীত

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬ | ১০:৩৫

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কর বাড়ানো হয়নি বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, নতুন ব্যবস্থায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর সঞ্চয়পত্র থেকে অগ্রিম কেটে নেওয়া কর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত পাবেন– এমন সুযোগ রাখা হয়েছে। 

গতকাল রোববার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘অর্থবিল ২০২৬-২৭-এর বিশ্লেষণ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

নতুন বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর দ্বিগুণ করা হয়েছে– এমন খবরে সমালোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কর আগের মতোই (১০ শতাংশ) আছে। তবে এটি এখন থেকে উৎসে কর নয়, বিবেচনা করা হবে অগ্রিম কর হিসেবে। সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে কেটে রাখা এই কর বছর শেষে করদাতার প্রদেয় করের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। অতিরিক্ত কেটে নেওয়া হলে, তা ফেরত দেওয়া হবে। এতে অনেক ক্ষেত্রে করদাতার প্রকৃত করের বোঝা আগের তুলনায় কমতে পারে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বাজেট সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শুল্ক ও কর বাড়ার কারণে যাতে দ্রব্যমূল্যের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর ও শুল্কে স্বস্তি দেওয়া হয়েছে। কভিড-১৯ মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়ার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে এবং ব্যবসা সহজ করতে বিভিন্ন সহায়ক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

অর্থবিলে অপ্রদর্শিত অর্থকে সাদা করার সরাসরি সুযোগ দেওয়া হয়নি দাবি করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কেউ ফ্ল্যাটের দলিল মূল্য উল্লেখ করে নিয়মিত হারে কর দিলে সেটি কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নয়। বরং যেহেতু ফ্ল্যাটের প্রকৃত মূল্য দেখাতে হবে, সে ক্ষেত্রে অপ্রদর্শিত অর্থের ওপর তাকে ২০ শতাংশ জরিমানা দিতে হবে। 

ভ্যাট ব্যবস্থাকে সহজ করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছোট ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীর জন্য সহজ ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবসায়ীকে জটিল রিটার্ন, অডিট বা হিসাবপত্র সংরক্ষণের ঝামেলায় পড়তে হবে না। অনলাইনে তাৎক্ষণিকভাবে নিবন্ধন নিয়ে নির্ধারিত টার্নওভার কর পরিশোধ করতে পারবেন তারা।  

তামাক খাতে প্রায় ১৫ শতাংশ পণ্য করের আওতার বাইরে থেকে যায় উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, রাজস্ব ফাঁকি রোধে তামাক শিল্পে এআর কোড যুক্ত স্ট্যাম্প চালু করা হবে। এর মাধ্যমে যে কোনো নাগরিক যাচাই করতে পারবেন পণ্যটির ওপর ভ্যাট দেওয়া হয়েছে কিনা। যদি কেউ ফাঁকি ধরে দিতে পারেন, তবে তাকে পুরস্কৃত করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে জরিমানার আওতায় আনা হবে। পর্যায়ক্রমে এই প্রযুক্তি পানীয়, চিপসসহ অন্যান্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানেও সম্প্রসারণ করা হবে। 

আবদুর রহমান খান বলেন, বর্তমানে ৪৫ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন। আগামী অর্থবছর থেকে কোম্পানি ও ভ্যাট রিটার্নও সম্পূর্ণ অনলাইনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিভিত্তিক অডিট পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, রপ্তানি বাড়াতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধায় বড় ধরনের ডি-রেগুলেশন আনা হয়েছে। এখন থেকে যে কোনো খাতের রপ্তানিকারক বন্ড লাইসেন্স নিতে পারবেন। এমনকি লাইসেন্স ছাড়াও ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে ডিউটি ফ্রি ইমপোর্ট করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর হওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে এবং গোডাউনে মালপত্র রাখার সব সীমারেখা উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এত ছাড় দেওয়ার পর রাজস্ব আয় কীভাবে আসবে– এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রথাগত তদারকির চেয়ে ডিজিটাল মেকানিজমের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ে বেশি মনোযোগী হচ্ছে এনবিআর।

করছাড় ও ব্যবসা সহজ করার মাধ্যমে ব্যবসার ভলিউম বাড়লে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাজস্ব আয় বাড়বে। এ ছাড়া শুল্ক ফাঁকি বা বন্ডের অপব্যবহারের মতো লিকেজগুলো শক্ত হাতে দমন করতে পারলেও রাজস্ব বাড়বে। 

অনুষ্ঠানে এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের পরিচালক ও কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, কর আইনে আনা বিভিন্ন পরিবর্তন এবং এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ আছে। কিছু ইতিবাচক সংস্কারের পরও পেছনের তারিখ থেকে কর কার্যকর করা এবং স্বর্ণের ওপর কর আরোপের ক্ষেত্রে আরও যৌক্তিক হওয়া প্রয়োজন। 

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম। সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন এনবিআরের কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন

×