ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজে সায়েন্স কার্নিভাল, মুখরতা
ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজে ইনোভেশন অ্যান্ড সায়েন্স কার্নিভালের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. এম রিজওয়ান খান, ঢাবির অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালাম আকন্দ, এটিএন বাংলার উপদেষ্টা তাশিক আহমেদ, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলীসহ অন্যরা। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬ | ১০:২৬
ঢাকার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীর প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে মুখর ছিল ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজ প্রাঙ্গণ। বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করা, কৌতূহলী মনকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের পথে উৎসাহিত করা এবং তরুণদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চার আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আয়োজন করা হয় তিন দিনের অষ্টম ডিআইসি ইনোভেশন অ্যান্ড সায়েন্স কার্নিভাল।
গতকাল রোববার পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান হয়। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় কলেজটির ৬৫তম বার্ষিক বিজ্ঞান উৎসব।
উৎসবজুড়ে ছিল বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সৃজনশীলতা ও জ্ঞানভিত্তিক নানা প্রতিযোগিতা এবং প্রদর্শনী। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও গণিত অলিম্পিয়াডের পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, হিসাববিজ্ঞান ও আইসিটি অলিম্পিয়াড, প্রজেক্ট ডিসপ্লে, মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা, উপস্থিত বক্তৃতা, ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা, ট্রেজার হান্ট এবং দেয়াল সাময়িকী প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
কার্নিভালের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সাধারণ জ্ঞানভিত্তিক উন্মুক্ত কুইজ প্রতিযোগিতা ‘একটুখানি বিজ্ঞান’। পাশাপাশি বিজ্ঞান কল্পকাহিনি লেখা, বিজ্ঞানভিত্তিক দেয়াল ম্যাগাজিন, প্রোগ্রামিং, স্ক্র্যাপবুক তৈরি ও প্রদর্শন এবং রোবটিকস প্রদর্শনী শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা তুলে ধরার সুযোগ করে দেয়।
উৎসবে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩০টি প্রকল্প প্রদর্শিত হয়। এসব প্রকল্পে শিক্ষার্থীরা পরিবেশ, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, শক্তি ও দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান উপস্থাপন করে। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগ ও গ্রুপে বিজয়ী প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। উৎসব উপলক্ষে প্রকাশিত হয় ‘সংবেদ’ নামে একটি স্মারকগ্রন্থ।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এম রিজওয়ান খান। তিনি বলেন, বিজ্ঞান হচ্ছে সত্যের অন্বেষণ। বিজ্ঞানই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। একটি দেশকে উন্নত করতে হলে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে এবং বিজ্ঞানচর্চার কোনো বিকল্প নেই।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালাম আকন্দ, এটিএন বাংলার উপদেষ্টা (ট্রান্সমিশন) তাশিক আহমেদ এবং সমকালের সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ আরিফ আহমদ। তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানভীতি দূর করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা চাই তরুণরা বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে উঠুক, প্রশ্ন করতে শিখুক এবং উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে যাক। দেশের উন্নয়নের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তার বিকাশ জরুরি।’
পুরস্কার বিতরণের পর অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চেতনার মিলনমেলায় পরিণত হওয়া এ বিজ্ঞান উৎসব তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলে মনে করছেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।
- বিষয় :
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
