ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

শিশুদের ক্ষতি-সংক্রান্ত মামলায় দায়মুক্তি চায় মেটা

কংগ্রেসে তদবিরের অভিযোগ, বিরোধিতায় শিশু অধিকারকর্মীরা

শিশুদের ক্ষতি-সংক্রান্ত মামলায় দায়মুক্তি চায় মেটা
×

ছবি: রয়টার্স

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ | ০৫:৪২

শিশু-কিশোরদের ক্ষতির জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে দায়ী করে করা মামলাগুলো থেকে আইনি সুরক্ষা পেতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে তদবির করছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বর্তমানে হাজারো মামলা চলমান থাকায় এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রয়টার্সের হাতে আসা প্রস্তাবিত আইনি ভাষ্য এবং বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত ‘কিডস অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট’ (কোসা) আইনের আওতায় বিশেষ দায়মুক্তি চায় মেটা। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে শিশুদের ক্ষতির অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে চলমান বহু মামলা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

প্রস্তাবিত বিধানে বলা হয়েছে, ১৮ বছরের কম বয়সীদের অনলাইন নিরাপত্তা বা গোপনীয়তা-সংক্রান্ত ক্ষতির অভিযোগে অঙ্গরাজ্য আইনের আওতায় কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে মামলা বা দায় আরোপ করা যাবে না।

মেটার মুখপাত্র স্টেফানি অটওয়ে দাবি করেছেন, এ প্রস্তাব বিদ্যমান মামলাগুলো বাতিল করার জন্য নয় এবং এটি কোনো ‘সর্বাত্মক দায়মুক্তি’ও নয়। তার ভাষ্য, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ে বিচ্ছিন্ন অঙ্গরাজ্যভিত্তিক আইনের পরিবর্তে একটি জাতীয় মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রায়াল আইনজীবীদের সংগঠন আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর জাস্টিসের প্রতিনিধি জুলিয়া ডানকান এ ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ভাষা কার্যকর হলে শিশুদের ক্ষতির জন্য প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার অধিকাংশ মামলাই কার্যত অকার্যকর হয়ে যাবে।

সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, কোসা আইনের প্রতি নিজেদের বিরোধিতা প্রত্যাহারের বিনিময়ে মেটা এই দায়মুক্তির বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে।

আইনটির আওতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন সব ফিচার ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যেগুলো শিশুদের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে অনন্ত স্ক্রলিং (ইনফিনিট স্ক্রল), অতিরিক্ত নোটিফিকেশন এবং চেহারা পরিবর্তনকারী ফটো ফিল্টার।

চলতি বছরের শুরুতে ক্যালিফোর্নিয়ার এক মামলায় মেটা ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে রায় দেন আদালত। মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রতিষ্ঠান দুটি জানত যে তাদের কিছু ফিচার শিশু-কিশোরদের জন্য আসক্তিকর ও ক্ষতিকর হতে পারে। ওই মামলায় দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণা দিয়েছে তারা।

কোসা বিলটি ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে বিপুল সমর্থন পেলেও প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়নি। চলতি বছর বিলটি আবারও কংগ্রেসে উত্থাপন করা হয়েছে। এতে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতাদের সমর্থন রয়েছে।

আরও পড়ুন

×