ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৩৫

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৩৫
×

রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় শহর লা গুইরায় বহু ভবন ধসে পড়েছে। ছবি: বিবিসি

বিবিসি

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ | ০৯:৫৭

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের কাছে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২৩৫ জন নিহত এবং ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা জীবিতদের উদ্ধারে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় রাত ১০টা ৪ মিনিট) প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার এবং কয়েক সেকেন্ড পরই আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। দুটি ভূমিকম্পই ছিল অগভীর গভীরতায়, ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় শহর লা গুইরায় বহু ভবন ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আটকে পড়া মানুষের সাহায্যের আকুতি শোনা যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। জাতীয় ছুটির দিন হওয়ায় অনেক মানুষ বাসায় অবস্থান করছিলেন, যা হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার বেশিরভাগই লা গুইরায়।

ভূমিকম্পে রাজধানীর বাইরে ত্রুজিলো, ইয়ারাকুই, কারাবোবো, আরাগুয়া ও মিরান্ডা অঙ্গরাজ্যেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থিত মাইকেতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে মূল ভূমিকম্পের পর অন্তত ৩০টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।

ইউএসজিএস সতর্ক করে জানিয়েছে, হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। সংস্থাটির প্রাথমিক বিশ্লেষণে ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা ৪২ শতাংশ এবং এক লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানির সম্ভাবনা ৩৩ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এগুলো পূর্ববর্তী অনুরূপ ভূমিকম্পের তথ্যের ভিত্তিতে করা জরুরি পরিস্থিতি মূল্যায়ন, চূড়ান্ত পূর্বাভাস নয়। ভেনেজুয়েলা দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্লেট দুটির মধ্যে দীর্ঘদিনের চাপ হঠাৎ মুক্তি পাওয়ার ফলেই এ শক্তিশালী ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়েছে।

উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, মেক্সিকো ও কাতার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ১৫ কোটি ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য সামরিক পরিবহন বিমান ও জাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে বলেন, ভেনেজুয়ার জনগণের পাশে দাঁড়াতে তার সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। একই সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা সহায়তা এবং মানবিক ত্রাণ দ্রুত পাঠানো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ১৯০০ সালের পর ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং ১৯৬৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর রাজধানী কারাকাসে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

আরও পড়ুন

×