ভেনেজুয়েলা
এক মিনিটে দুবার ভূমিকম্প ১০ হাজার প্রাণহানির শঙ্কা
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ। কারাকাসজুড়ে এভাবে বহু ভবন একেবারে মাটিতে মিশে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার লস পালোস গ্রান্দেস থেকে তোলা এএফপি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ | ০৯:৫২ | আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬ | ১০:১০
| প্রিন্ট সংস্করণ
শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় ১০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে এই বিপুল প্রাণহানির বিষয়ে সতর্ক করেছে। সরকারিভাবে মৃতের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দেশটিতে ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮৮ জন। আহত হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ।
গত এক শতকের মধ্যে এত বড় ভূমিকম্প দেখেনি ভেনেজুয়েলা। দেশটির স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে প্রথমে একটি ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প ও মিনিটখানেকের মধ্যেই ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এ সময় বহু ভবন ধসে পড়ে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির লা গুয়াইরা শহর। সেখানে বহু ভবন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
লা গুয়াইরা মূলত বন্দর শহর। এটি দেশটির রাজধানী কারাকাস থেকে উত্তরের দিকে অবস্থিত। ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, সেখানে একটি বিলাসবহুল হোটেল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ছাড়া ওই শহরে থাকা ভেনেজুয়েলার নৌ একাডেমি ও একাধিক সুউচ্চ আবাসিক ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভেনেজুয়েলা আগে থেকেই নানা অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো সক্ষমতা নেই তাদের। বিশ্বের দেশগুলো এরই মধ্যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে শুরু করেছে।
হতাহতের সংখ্যা সময়ের সঙ্গে আরও বৃদ্ধি পাবে, এমনটাই ধারণা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিজ্ঞানীদের। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভূমিকম্পের পরপরই জানান, যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করতে প্রস্তুত। পরে তিনি আরও জানান, দেশটিতে ভয়াবহ সংখ্যক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
রাজধানী কারাকাসেও ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদক সেখানের আলতামিরা এলাকায় অন্তত তিনটি ভবন ধসে পড়তে দেখেছেন। বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। এক ভবনের ধ্বংসস্তূপের বাইরে এক ব্যক্তিকে কাঁদতে ও তাঁর স্বজনের নাম ধরে ডাকতে দেখা যায়। অন্যদিকে, কারাকাসের উত্তরাঞ্চলের এলাকা সান বার্নান্ডিনোতে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে এক ব্যক্তি বলতে শোনা যায়, ভেতরে অনেকে আটকে আছেন।
ভেনেজুয়েলায় সচরাচর ভূমিকম্প হয় না। দেশটি এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে অভ্যস্ত নয়। এর আগে ১৯৬৭ সালে দেশটির রাজধানীতে ভূমিকম্প হয়েছিল। ৮০ বছর বয়সী এক ভেনেজুয়েলান নারী বলেছেন, এবারের ভূমিকম্প আগেরটির চেয়েও ভয়াবহ।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন নেতা ডেলসি রদ্রিগেজ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
ধ্বংসস্তূপে আটকা ব্যক্তিদের উদ্ধারই অগ্রাধিকার
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহায়তার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ধ্বংসস্তূপে আটক ব্যক্তিদের উদ্ধার করাই এখন তাদের অগ্রাধিকার।
রুবিও বলেন, এ মুহূর্তে আমরা এর মানবিক দিকটিতে মনোযোগ দেব। অনেক মানুষের ক্ষতি হয়েছে, অনেকে আঘাত পেয়েছেন। কেউ কেউ মারা গেছেন, কেউ গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন এবং অনেকে ধ্বংসস্তূপে আটকে আছেন। আমরা সেটিতেই মনোনিবেশ করব।’
৪৮ ঘণ্টা পর পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে এবং ভেনেজুয়েলার কী প্রয়োজন, তা আরও স্পষ্টভাবে জানা যাবে বলেও উল্লেখ করেন রুবিও। ভেনেজুয়েলায় ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবা ফিরিয়ে আনতেও যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে বলে জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
আফটার শকের ঝুঁকি
অস্ট্রেলিয়ার সিসমোলজি রিসার্চ সেন্টারের মুখ্য গবেষক অ্যাডাম প্যাসকেল বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় আফটার শকের ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করা প্রয়োজন। তিনি জানান, যারা উদ্ধারকাজে নিয়োজিত, তাদের জন্য এটি ঝুঁকি তৈরি করবে।
প্যাসকেল আরও বলেন, আগের দুটির মতো সমমাত্রার বা তার চেয়েও বড় মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে কয়েক দিন পার হয়ে গেলে এই ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে আসবে।
বিশেষ টিম যাচ্ছে ভেনেজুয়েলায়
জাতিসংঘের সনদপ্রাপ্ত বিশেষ উদ্ধার টিম গতকাল ভেনেজুয়েলার পথে রওনা হয়েছে। তারা সেখানে উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনাসহ নানা ভূমিকা পালন করবেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জানান, ভেনেজুয়েলার জাতিসংঘ সমন্বয়ক ও বেশ কয়েকটি দেশের প্রধানের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে।
ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, স্পেন, নেদারল্যান্ডসও বিশেষ সামরিক উদ্ধারকারী দল পাঠাচ্ছে ভেনেজুয়েলায়।
- বিষয় :
- ভূমিকম্প
