ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে ফের জাহাজে হামলা, নাবিক উদ্ধারে জাতিসংঘের অভিযান স্থগিত

হরমুজ প্রণালিতে ফের জাহাজে হামলা, নাবিক উদ্ধারে জাতিসংঘের অভিযান স্থগিত
×

হরমুজ প্রণালি

সিএনএন

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ | ১০:৩১ | আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬ | ১১:৪৩

হরমুজ প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার পর পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা হাজারো নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার জাতিসংঘের উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওই কর্মকর্তা জানান, ইরান-সংক্রান্ত চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধারে পরিচালিত অভিযানের মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটে। তবে হামলা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা দায় স্বীকার করা হয়নি।

এদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, একটি পণ্যবাহী জাহাজের ডান পাশে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা উড়ন্ত বস্তু আঘাত হানে। এতে জাহাজটির ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতিরও খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে। পাশাপাশি ওই এলাকায় চলাচলকারী সব জাহাজকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতার ফলে পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা ১১ হাজারের বেশি নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ সফলভাবে নিরাপদ স্থানে পৌঁছানো হলেও সর্বশেষ হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আইএমওর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ এক বিবৃতিতে বলেন, উদ্ধার পরিকল্পনার আওতায় বেশ কয়েকটি জাহাজ সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত বাকি জাহাজ এবং এ অঞ্চলে অবস্থানরত নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব কি না, তা মূল্যায়নের জন্য আপাতত অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ওমান উপসাগরে হামলার শিকার জাহাজটি আইএমওর উদ্ধার কার্যক্রমের অংশ ছিল না। তবুও সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উদ্ধার পরিকল্পনা বন্ধ থাকবে।

বিশ্ব নাবিক দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় ডোমিঙ্গুয়েজ বলেন, পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা হাজার হাজার নাবিককে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন বেশি। ভূরাজনৈতিক সংঘাতের অনাকাঙ্ক্ষিত শিকার যেন তারা না হন, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অন্যদিকে ইরানের পারস্য উপসাগরীয় সমুদ্রপথ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির নির্ধারিত নৌপথের বাইরে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তার দায়িত্ব তারা নেবে না। এমন জাহাজ কোনো বিমা বা ক্ষতিপূরণের আওতায়ও থাকবে না বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, অনুমোদনহীন রুটে চলাচলের সম্পূর্ণ দায়ভার জাহাজের মালিক, অপারেটর ও কমান্ডারের ওপর বর্তাবে।

এ ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপসাগরীয় অঞ্চলে সফর করছেন। তার সফরের উদ্দেশ্য, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতাকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে হওয়া ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের বিষয়বস্তু প্রকাশ করেছে। এতে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা, ইরানের ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×