ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ভেনেজুয়েলা

এক মা শোনালেন নবজাতকসহ ধ্বংসস্তূপে টিকে থাকার গল্প

এক মা শোনালেন নবজাতকসহ ধ্বংসস্তূপে টিকে থাকার গল্প
×

কারাকাসের একটি ক্লিনিকে স্বামী-সন্তানের সঙ্গে দায়ানা পাতিনো। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

বিবিসি

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ | ১৮:৫৬ | আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ | ১৮:৫৭

ভূমিকম্পে ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ২৪ ঘণ্টা আটকে ছিলেন ভেনেজুয়েলার বাসিন্দা দায়ানা পাতিনো। এই সময়ে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে রেখেছিলেন ১৮ দিন বয়সী নবজাতককে। তাদের অলৌকিকভাবে বেঁচে থাকার ঘটনা সাড়া ফেলেছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। 

কারকাসের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়ার সময় দায়ানা তাঁর অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন বিবিসির সাংবাদিকের সঙ্গে। জানান, হুয়ান ডেভিড (নবজাতকের নাম) তাঁকে ধ্বংসস্তূপের নিচেও সজাগ থাকার শক্তি দিয়েছিল। ‘যতক্ষণ ও বেঁচে ছিল, আমিও বেঁচে থাকার তাগিদ অনুভব করি। ও শ্বাস নিচ্ছে কি না তা নিশ্চিত হতে আমি বারবার ওর নাকে হাত দিয়ে দেখতাম।’

ভূমিকম্পের সময় দায়ানা উত্তর উপকূলীয় অঞ্চল লা গুয়াইরাতে একটি ভবনের ৮ম তলায় থালাবাসন ধোয়ার কাজ করছিলেন। কম্পন শুরু হলে এটিকে সাধারণ ঝাঁকুনি ভেবে দ্রুত শিশুকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে দায়ানা বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছিল যেন বাতাসে উড়ছি। এরপর হঠাৎ মনে হলো পানি আর কাদামাটির গভীরে তলিয়ে যাচ্ছি। এক পর্যায়ে একটা গর্তের মধ্যে গিয়ে পড়ি।’

দায়ানা বলেন, ‘আমি নিজেই জানি না বাতাসে ওড়ার সময়ও কীভাবে হুয়ানকে জড়িয়ে ধরে রেখেছিলাম। শেষে একটি আসবাবপত্রের সঙ্গে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা খাই।’ ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ার পরপরই তিনি চিৎকার করতে শুরু করেন। কিন্তু দ্রুতই বুঝতে পারেন বাইরে থেকে কেউ তাঁর আওয়াজ শুনতে পাচ্ছে না।

এরপর দায়ানা সিদ্ধান্ত নেন, শুধু শুধু আর্তনাদ করে নিজের শক্তি খরচ করা উচিত হবে না। যখন আশপাশে কারও উপস্থিতি টের পাবেন কেবল তখনই চিৎকার করবেন। দায়ানা বলেন, ‘আমার বাঁ পা কংক্রিটের নিচে চাপা পড়েছিল। একটুও নড়তে পারছিলাম না। কপাল একটি পাথরের সঙ্গে লেপ্টে ছিল।’

ধ্বংসস্তূপের ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে দায়ানা কেবল ছোট আলোর বিন্দুর মতো কিছু দেখতে পাচ্ছিলেন। তাঁর ভাষায় সেটি দেখতে অনেকটা চাঁদের মতো লাগছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর হঠাৎ তাঁর ভাইয়ের গলার আওয়াজ পান। তখন বুঝতে পারেন, এবার উদ্ধার হওয়ার সময় এসেছে।

দায়ানা বলেন, ‘আমি মনে মনে ভাবলাম, এটাই একমাত্র সুযোগ। ফুসফুসের সমস্ত শক্তি দিয়ে চিৎকার করে উঠলাম। ওপাশ থেকে আমার ভাই বলে উঠল, আমি খুঁজে পেয়েছি।’

গত বৃহস্পতিবার রাতে অত্যন্ত জটিল এক অভিযানের মাধ্যমে দায়ানা ও তাঁর নবজাতক সন্তানকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করা হয়। ভূমিকম্পের সময় তাঁর দুই পায়ে গুরুতর আঘাত লাগলেও, সৌভাগ্যবশত শিশু হুয়ানের চোট গুরুতর নয়।

দায়ানার স্বামী গেরসন জানান, ভূমিকম্পের ঠিক আগমুহূর্তে বাড়ি ফিরে তিনি গাড়ি পার্ক করছিলেন। কম্পন শুরু হতেই দেয়াল টপকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সক্ষম হন। পরে চোখের সামনে বহুতল ভবনটি ধসে পড়তে দেখেন। 

ওই সময় গেরসনের মনে হয়েছিল, তাঁর পরিবারের সঙ্গে সবচেয়ে খারাপ কিছুই ঘটেছে। স্ত্রী-সন্তানের এভাবে ফিরে আসাটা তাঁর কাছে একটি ‘মিরাকল’ বা অলৌকিক ঘটনার মতো মনে হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×