ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য

এল নিনো চলে এসেছে, চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি

এল নিনো চলে এসেছে, চরম  আবহাওয়ার ঝুঁকি
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৩১ | আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ০৯:২৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

এল নিনো শুরু হয়েছে এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এটি দ্রুত শক্তিশালী রূপ নেবে বলে গতকাল শুক্রবার সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বের দেশগুলোকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউএমও। এল নিনোর কারণে মধ্য ও পূর্ব বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের প্রবণতায় পরিবর্তন আসে।
সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর এল নিনো দেখা দেয় এবং এর স্থায়িত্ব হয় প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস। এল নিনো ও এর বিপরীত অবস্থা ‘লা নিনা’র মধ্যে পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন ঘটে। মাঝখানে থাকে নিরপেক্ষ পরিস্থিতি।

ডব্লিউএমও এল নিনোকে দুর্বল, মাঝারি, শক্তিশালী ও অত্যন্ত শক্তিশালী– এই চার শ্রেণিতে ভাগ করে থাকে। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী এটি তৃতীয় স্তর অর্থাৎ ‘শক্তিশালী’ পর্যায়ে পৌঁছাবে।

ডব্লিউএমওর জলবায়ুবিজ্ঞানী আলভারো সিলভা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত মাসের তুলনায় এখন অনেক বেশি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে যে বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যৎ পূর্বাভাসে যদি দেখা যায় এটি আরও তীব্র রূপ নেবে, তাহলে আগামী মাসগুলোতে ডব্লিউএমও নতুন হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করবে।
জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক সংস্থাটি জানায়, বিভিন্ন বৈশ্বিক জলবায়ু কেন্দ্রের মডেলভিত্তিক পূর্বাভাসে মধ্য ও পূর্ব বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ধারাবাহিক ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। 

বার্তা সংস্থা এএফপির খবর বলছে, এল নিনো সাধারণত নভেম্বর ও ফেব্রুয়ারির মধ্যে চরম পর্যায়ে গিয়ে ঠেকলেও তাপমাত্রা কয়েক মাস পর বাড়তে দেখা যায়। সিলভার দেওয়া তথ্যানুসারে, এল নিনোর প্রভাব চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্নভাবে অনুভূত হবে। আগামী বছরও এর প্রভাব থাকবে।

কৃষি ও স্বাস্থ্যসহ জলবায়ু-সংবেদনশীল খাতগুলোকে প্রস্তুত রাখতে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে ডব্লিউএমও।

সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, ‘মানুষের জীবন রক্ষা এবং অর্থনীতি ও সমাজে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এসব আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি বলেন, ‘এল নিনো ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং দ্রুত শক্তিশালী হবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। এর ফলে বহু অঞ্চলে খরা, অতিবৃষ্টি, স্থলভাগে তাপপ্রবাহ এবং সমুদ্রে সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের ঝুঁকি আরও বাড়বে।’

ডব্লিউএমওর হালনাগাদ পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ অক্ষাংশের ৬০ ডিগ্রি থেকে উত্তর অক্ষাংশের ৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় সব জনবসতিপূর্ণ স্থলভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ের বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যদিকে ভারতীয় উপমহাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×