দ্বিতীয় দফা হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, পাল্টা জবাব ইরানের
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪১ | আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৪২
| প্রিন্ট সংস্করণ
নতুন করে আবারও সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। একে অন্যকে লক্ষ্য করে হামলা, প্রাণহানি কোনো কিছুই আর বাকি নেই। সমঝোতা স্মারকের তোয়াক্কা করছে না কোনো পক্ষই। আবারও আগের মতো হামলা হচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলোতে। দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের হামলার কবলে পড়েছে কুয়েত ও বাহরাইন। অন্যদিকে হামলা ঠেকিয়েছে জর্ডান। সতর্কতা সংকেত বেজে উঠেছিল কাতারে।
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দিনের হামলার জবাব দিতেই বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে মার্কিন ঘাঁটি ও কৌশলগত কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে তারা। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দুই দিনে ইরানে ১৪ জন নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে ৭৮ জন। হরমুজ প্রণালি-সংলগ্ন শহরগুলোতে আক্রমণ হয়েছে। বুশেহর, চাবাহার, বন্দর আব্বাস ও সিরিক– কোনো শহরই হামলার হাত থেকে রেহাই পায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ দিয়ে পার হতে থাকা জাহাজে ইরানি হামলার প্রতিশোধ নিতেই এভাবে আঘাত হানছে যুক্তরাষ্ট্র।
কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর থেকে তারা নিজেদের আকাশসীমায় তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ১০টি ড্রোন শনাক্ত করেছে। প্রতিটি আক্রমণ তারা সফলভাবে ঠেকিয়েছে, তবে প্রতিহত করার সময় শার্পনেল পড়ে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। গত বুধবার দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে একই ধরনের আক্রমণ বাহরাইন ও কাতারেও হয়েছিল। মোবাইলে সতর্কতা সংকেত পৌঁছে যায় দ্রুতই। পরে আবার জানানো হয়, হুমকি মোকাবিলা করা হয়েছে। আলজাজিরার খবর বলছে, কয়েক মাসের মধ্যে এবারই প্রথম কাতারের জনসাধারণ আবার এ রকম বার্তা পেল।
ইরান বলছে, এসব উপসাগরীয় রাষ্ট্রে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে এবং এই অবকাঠামোগুলো তাদের দেশে হামলা চালানোর জন্য নজরদারিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। কাতারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের দেশে থাকা কোনো মার্কিন ঘাঁটি ইরানে হামলায় ব্যবহার করা হয়নি। দেশটি দুই পক্ষকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে, জর্ডানও ইরানের আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর এক সূত্র এ তথ্য জানায়। হামলা চলাকালে বা আক্রমণ প্রতিহত করার সময় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ইরানে হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বুশেহর পরমাণু কেন্দ্রের কাছে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এক ইরানি কর্মকর্তা। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরএনএ বুশেহরের স্থানীয় কর্মকর্তা এহসান জাহানিয়ানের কথা তুলে ধরেছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একমাত্র পরমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। দুপুর নাগাদ ওই হামলা হয়। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।
ইরানের বার্তা সংস্থা মেহেরের খবর বলছে, হরমুজ প্রণালির বন্দর শহর বন্দর আব্বাসে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ ছাড়া বার্তা সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, ইরানের সিরিক শহরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তিনজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন ঘটবে
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা শুধু ইরানের পক্ষ থেকে জোরালো জবাবই বয়ে আনবে না, পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির যান চলাচলেও বাধা তৈরি করবে।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, যুদ্ধের আগের তুলনায় ট্রাফিক বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে অর্ধেক। এর দায় ওয়াশিংটনের বলেও উল্লেখ করে সংস্থাটি। তারা আরও জানায়, বিদেশিদের এই ভূমি বা হরমুজ প্রণালিতে কোনো অধিকার নেই।
ট্রাম্পের অপমানের জবাব দেবে না ইরান
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অপমানজনক বক্তব্যের জবাব দেবে না। বহু সমালোচক এর আগে দাবি করেছিলেন, ইরানের কর্মকর্তাদের উচিত মৌখিকভাবে ট্রাম্পের অপমানের জবাব দেওয়া। মূলত এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সে বিষয়টিরই ইতি টেনেছেন পেজেশকিয়ান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা এমন কারও কাছ থেকে এ ধরনের কিছু শিখব না, যার হাত শিশুদের রক্তে রাঙানো।’ ট্রাম্প প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ‘তিনি এমন একজন যিনি নিজের চিন্তা ও ভাবনা অপমান ছাড়া ব্যক্ত করতে পারেন না। তাঁর বক্তব্য ও চিন্তা, তাঁর মৌখিক উচ্চারণের মতোই অপমানজনক। আমরা দৃঢ়ভাবে আমাদের অধিকার রক্ষা করছি।’
প্রসঙ্গত ন্যাটো সম্মেলন চলাকালে আঙ্কারায় ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ। পাশাপাশি তিনি ইরানের নেতৃস্থানীয়দের মিথ্যাবাদী, জালিয়াত, সহিংস ও অসুস্থ ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেন।
- বিষয় :
- ইরান যুদ্ধ
- যুক্তরাষ্ট্র
- হামলা