তীব্র তাপপ্রবাহে স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, নিহত ১২
স্পেনে দাবানল। ছবি: এএফপি
বিবিসি
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ১১:৪৫
দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন শতাধিক দমকলকর্মী, আর নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় এক হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্পেনের আন্দালুসিয়া আঞ্চলিক সরকার জানিয়েছে, আলমেরিয়া প্রদেশের লস গাইয়ারদোস এলাকায় বৃহস্পতিবার এ দাবানলের ঘটনা ঘটে। নিহতদের কয়েকজনের মরদেহ আগুনে পুড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, বিদ্যুতের একটি তার ছিঁড়ে পড়ার পর আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দ্রুত পাশের বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুন লাগার কারণ এখনো নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।
আন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান হুয়ানমা মোরেনো এ ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শোক প্রকাশ করে বলেন, এ ঘটনায় সবাই গভীরভাবে শোকাহত।
বেদার এলাকার আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ১৫০ জন দমকলকর্মী কাজ করছেন। আহতদের মধ্যে একজন ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং আরেকজন দগ্ধ হয়েছেন। আরও চারজনকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দাবানলের কারণে কয়েকটি সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি সেবার কর্মীরা প্রায় এক হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে স্পেনের সামরিক জরুরি ইউনিট (ইউএমই)ও মোতায়েন করা হয়েছে।
চলমান তাপপ্রবাহে স্পেনের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা ওঠার পূর্বাভাস রয়েছে। একই সময়ে ফ্রান্স ও পর্তুগালেও বড় ধরনের দাবানলের সঙ্গে লড়ছেন দমকলকর্মীরা। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আগেই জানিয়েছিলেন, এ বছর গ্রীষ্মে দাবানল মোকাবিলায় দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ইউরোপীয় বন অগ্নিকাণ্ড তথ্যব্যবস্থা-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর স্পেনে প্রায় ৩ লাখ ৯৩ হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে যায়, যা ২০০৬ থেকে ২০২৪ সালের গড়ের ছয় গুণেরও বেশি।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে তাপমাত্রা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, পানির সংকট এবং ভয়াবহ দাবানলের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে ইউরোপে এ ধরনের বড় দাবানলের ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে।