হরমুজ প্রণালীতে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ
হরমুজ প্রণালি। ছবি: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ | ১১:১০ | আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৬ | ১১:৪০
সোমবার ইরানের ওপর টানা নবম দিনের মতো হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং সেগুলো অচল হয়ে পড়েছে। এতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তীব্র বেড়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘তারা হামলার একটি নতুন ঢেউ’ শুরু করেছে। এর লক্ষ্য হলো প্রণালীর গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতাকে দুর্বল করা।
এক মাস আগে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার চক্র তীব্র হয়েছে। এতে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত ঘনীভূত হয়েছে, যা জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করছে এবং বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, সোমবার ভোরের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক, বন্দর মাহশাহর এবং বন্দর ইমাম খোমেইনি এলাকায় আঘাত হেনেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, হরমুজ আন্তর্জাতিক নৌপথ। ইরান যদি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা অব্যাহত রাখে তবে যুক্তরাষ্ট্রও আঘাত হানবে। ‘যতদিন ইরান কোনো আন্তর্জাতিক নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে, ততদিন আমাদের জবাব দিতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানের পথ সবসময় খোলা রেখেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর সিরিয়ার আল-তানফ এলাকায় ‘শত্রুর বিশেষ অভিযান সদর দপ্তরে’ আকস্মিক হামলার ঘোষণা দিয়েছে। তারা জর্ডানের আকাবা বিমানবন্দরে মার্কিন বিমানকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এর আগে কুয়েতের আল-আদিরি ক্যাম্প ও আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে ইরান জানিয়েছে।
কুয়েত সরকার জানিয়েছে, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো একটি লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে, যাতে আগুন লেগেছে। তারা এটিকে গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সরাসরি হামলা বলে অভিহিত করেছে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস জানিয়েছে, হরমুজের মধ্য দিয়ে অনিরাপদ দক্ষিণের পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার বিস্ফোরিত হয়ে অচল হয়ে পড়েছে। তাদের অভিযোগ, মার্কিন সামরিক বাহিনী জাহাজ দুটিকে এই পথ ব্যবহারে উৎসাহিত করেছিল। রয়টার্স এ ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি।
বিবৃতিতে জাহাজগুলোর নাম, পতাকা, নাবিকদল বা হতাহতের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। গার্ডস সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে এই জলপথ পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য কিংবা এক ফোঁটা তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্যও নিরাপদ থাকবে না। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস রবিবার গভীর রাতে ওমানের উপকূলের কাছে একটি জাহাজে আগুন লাগার খবর পেয়েছে, যদিও কারণ এখনো যাচাই করা হয়নি।
এলএসইজি-এর তথ্য অনুসারে, রবিবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে চারটি জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের দিনের আটটির তুলনায় কম। শুক্রবার থেকে অন্তত তিনটি তেলজাত পণ্যের ট্যাঙ্কার ও একটি ভিএলসিসি প্রণালীতে প্রবেশ করেছে। সোমবার তেলের দাম ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে।
রবিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার উত্তর ইরাকে এক সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। অবিস্ফোরিত বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার সময় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে জর্ডানে দুজন সেনা নিহত ও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। শুক্রবারের হামলাস্থলে “অশনাক্ত দেহাবশেষ” পাওয়া গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মোট ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৪২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অকার্যকর করা এবং আঞ্চলিক মদতপুষ্ট শক্তিগুলোকে দুর্বল করার লক্ষ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ইরান ও লেবাননের বাসিন্দা।
সূত্র: রয়টার্স
- বিষয় :
- ইরান
- হরমুজ প্রণালী
- বিস্ফোরণ
- যুক্তরাষ্ট্র