ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের ৫ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করল জর্ডান

ইরানের ৫ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করল জর্ডান
×

ছবি: রাজিয়াহ পউদাত/আইএসএনএ ভায়া এপি

এপি

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ | ১২:৩৮

জর্ডানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরানের ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার জবাবে তেহরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

জর্ডানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পেত্রার খবরে বলা হয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাঝপথেই পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে। এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তারা ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ‘ডজন ডজন’ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা, পাশাপাশি উপকূলীয় নজরদারি ও প্রতিরক্ষা কেন্দ্র।

জর্ডানে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকা একটি ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এ হামলা চালায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে হামলায় দুজন আহত হয়েছেন। এছাড়া দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

এর আগে বুধবার ইরাকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলায় অন্তত ২০ জন যোদ্ধা এবং ছয়জন ইরানি উপদেষ্টা নিহত হন। এর পরপরই নতুন করে হামলার এ ধারা শুরু হয়।

এদিকে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রে জানিয়েছে, মিশরের দামিয়েত্তা বন্দরে ড্রোন হামলায় দুটি প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি ভাসমান সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং গ্রিসের মালিকানাধীন একটি ট্যাঙ্কারে চালানো এ হামলার জন্য কারা দায়ী, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এতে কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি।

কয়েক দিনের আপেক্ষিক স্থিতিশীলতার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও একাধিক ফ্রন্টে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা বেড়েছে। পাঁচ মাস ধরে চলা এ সংঘাতের অবসান আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে নিজেদের ঘাঁটি ও মিত্রদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় অত্যাধুনিক গোলাবারুদের যে মজুত ইতোমধ্যে কমে এসেছে, চলমান সংঘাত তা আরও দ্রুত নিঃশেষ করে দিতে পারে।

আরও পড়ুন

×