ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতে শিক্ষার্থী আন্দোলন

মুক্তির পরও আতঙ্কে ‘ককরোচ’রা

মুক্তির পরও আতঙ্কে ‘ককরোচ’রা
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ০২:৪৬

সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলন প্রত্যাহারের পর পুলিশি ব্যবস্থা ও আটকের অভিযোগ উঠছে। গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই—এমন আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র ও আসামে গ্রেপ্তার হওয়া বহু শিক্ষার্থী কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

তবে তারা বলছেন, মুক্তি মিললেও আতঙ্ক কাটেনি। পুলিশের লাঠিচার্জ, আইনগত প্রক্রিয়া না মেনে আটক, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং দায়ের হওয়া ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (এফআইআর), যাকে বাংলায় প্রাথমিক তথ্য বিবরণী বা সাধারণ অর্থে এজাহার বলা হয়; যার ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁরা অনিশ্চয়তায়।

বিহারের পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আশীষ কুমার জানান, দিল্লিতে ২০ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। এর আগে সংবাদ সম্মেলনে বিহার পুলিশ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি দিলেও কয়েক শিক্ষার্থী জড়ো হতেই লাঠিচার্জ শুরু হয়। পরে তাঁরা গান্ধী ময়দানে বসে প্রতিবাদ চালিয়ে গেলে পুলিশ তাঁদের আটক করে।

আশীষের অভিযোগ, প্রথমে আটকের কারণ জানানো হয়নি। পরে সাদা (ফাঁকা) গ্রেপ্তারি স্মারকে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। এরপর তাঁকে বেউর কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে ২৯ জুলাই গভীর রাত পর্যন্ত বন্দি ছিলেন তিনি।

মুক্তি পেলেও আশীষের আশঙ্কা, পুলিশ হয়রানি অব্যাহত রাখতে পারে। তিনি বলেন, এফআইআর না দেওয়ার আশ্বাস পেলেও এ বিষয়ে পুলিশের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পাননি। এমনকি এফআইআরের কপিও তাঁকে দেওয়া হয়নি। তিনি জানেন না, সেখানে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে, নাকি একটি দলের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া ১৬ জনের একজন আরশাদ আলি। তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া এফআইআর নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাইয়েদ নাফিরুল ইসলামের আইনি সহায়তায় ২৮ জুলাই আরশাদসহ ১৬ জন জামিন পান। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, অভিযুক্তদের কারও বিরুদ্ধে আগের কোনো অপরাধের রেকর্ডের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তবে কলকাতা পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্তদের সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। আদালতে প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ জমা দেওয়া হয়েছে। এফআইআর বহাল থাকবে নাকি বাতিল হবে, সে সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগ নেবে।

মুম্বাইয়ের আন্দোলনকারী তাবরেজ আলি সাইয়েদের বিরুদ্ধে চারটি পৃথক এফআইআর হয়েছে। তবে এফআইআরের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাননি তিনি। খবর দ্য প্রিন্টের।

আরও পড়ুন

×