ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতে প্রতি তিন বেকার তরুণের দুজনই স্নাতক

চার দশকে বেকারত্ব বেড়েছে ১৬ গুণ

ভারতে প্রতি তিন বেকার তরুণের দুজনই স্নাতক
×

ছবি: এনডিটিভি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ১৭:৫০

বর্তমানে ভারতে প্রতি তিনজন বেকার তরুণের মধ্যে দুজনের কাছেই স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৮৩ সালে ছিল এই সংখ্যা ছিল আটজনে মাত্র একজন। আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্টেট অফ ওয়ার্কিং ইন্ডিয়া ২০২৬’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত চার দশকে দেশটিতে উচ্চশিক্ষার ব্যাপক সম্প্রসারণ হলেও সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি। ফলে স্নাতক তরুণের সংখ্যা ১৩ গুণ বাড়লেও বেকার স্নাতকদের সংখ্যা বেড়েছে ১৬ গুণ।

১৯৮৩ সালে ২০-২৯ বছর বয়সী স্নাতকের সংখ্যা ছিল ৫০ লাখ, যা ২০২৬ সালে বেড়ে ৬ কোটি ৩০ লক্ষে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে এই বয়সীদের মধ্যে বেকারের সংখ্যা ৭ লাখ থেকে বেড়ে ১ কোটি ১০ লাখ হয়েছে। ২৫ বছরের কম বয়সী স্নাতকদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৯৮৩ সালের ৩৫ শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে ২০২৩ সালে ৩৯.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে ২৫-২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে বেকারত্ব ১২.২ শতাংশ থেকে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ২০ শতাংশে পৌঁছেছে।

২০০৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ স্নাতক তৈরি হলেও মাত্র ১৭ লাখ স্থায়ী বেতনভুক্ত চাকরি পেয়েছেন। তবে প্রতিবেদন বলছে, ডিগ্রির মূল্য এখনও শেষ হয়নি। অ-স্নাতকদের তুলনায় স্নাতকদের প্রারম্ভিক বেতন প্রায় দ্বিগুণ। তবে ২০১৭ সালের পর থেকে স্নাতকদের আয় স্থবির হয়ে পড়েছে এবং চাকরি পাওয়ার অপেক্ষার সময় আগের চেয়ে অনেক দীর্ঘ হয়েছে।

স্নাতক বেকারত্বের হারে রাজ্যভেদে বড় পার্থক্য রয়েছে। ৩০ বছরের কম বয়সী স্নাতক পুরুষদের মধ্যে বেকারত্বের হার দিল্লিতে ৮.৮ শতাংশ হলেও ওড়িশায় তা ৪০.৩ শতাংশ। নারীদের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ; জম্মু ও কাশ্মীরে ৭৩.৫ শতাংশ, তেলেঙ্গানায় ৫২.৩ শতাংশ এবং অন্ধ্রপ্রদেশে ৫১.৬ শতাংশ স্নাতক নারী বেকার। জাতীয় পরিসংখ্যানে পুরুষদের (২৫.১ শতাংশ) তুলনায় নারীদের (৩৬.৬ শতাংশ) বেকারত্বের হার অনেক বেশি।

দীর্ঘ বেকারত্বের এই অপেক্ষা পরিবারগুলোর জন্য বেশ ব্যয়বহুল। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের প্রায় ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রাইভেট কোচিংয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। এদিকে, গত ১১ জুন নীতি আয়োগের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যুবসমাজকে দেশের ‘সবচেয়ে বড় সম্পদ’ উল্লেখ করে জনসংখ্যাগত লভ্যাংশকে উন্নয়নমূলক লভ্যাংশে রূপান্তরিত করতে শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন।

সূত্র: এনডিটিভি

আরও পড়ুন

×