ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ

সেউতার ঘটনাকে হাতিয়ারে পরিণত করছেন কট্টর ডানপন্থিরা

সেউতার ঘটনাকে হাতিয়ারে পরিণত করছেন কট্টর ডানপন্থিরা
×

ফাইল ছবি-সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬ | ০১:২৩

স্পেনের সেউতায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অভিবাসী অনুপ্রবেশের ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে আবারও নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করার চেষ্টা করছে ইউরোপের কট্টর ডান রাজনীতিকরা। এমনকি মধ্যপন্থিরাও এই ইস্যুতে এমন পন্থা অবলম্বন করছেন, যা অভিবাসন সম্পর্কে উদার নীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে না; বরং ইউরোপ এ বিষয়ে কতটা কট্টর হতে পারে, তা তুলে ধরছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, ইউরোপে এই ধরনের সংকট এবার প্রথম দেখেনি। এর আগে ইতালি ও গ্রিসে ২০১৫ সালে সিরিয়া থেকে শরণার্থীর ঢল এসে হাজির হয়েছিল। সে সময় ইউরোপের মধ্যপন্থা ও উদার নীতির নেতারা যেভাবে বিষয়টি সামাল দিয়েছিলেন, তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেছে এবার।

স্পেনের ইস্যুকে নিজ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করতে শুরু করেছে ইতালির জর্জিয়া মেলোনির সরকার। চলতি বছর নির্বাচনে যাওয়ার কথা রয়েছে তাদের। তার আগে এ রকম একটি ঘটনা তাদের পালে হাওয়া জোগাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

সেউতা স্পেনের মূল ভূখণ্ড থেকে দূরে অবস্থিত এবং সেখানে অনুপ্রবেশকারী অভিবাসীদের ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশের পথ ছিল না। সেউতা শেনজেনেরও অংশ নয়। তারপরও স্পেন ইউরোপের চাপের মুখে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশ বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে।

যে জার্মানির একসময়ের মধ্য-ডান নেতা অ্যাঞ্জেলা মার্কেল সিরীয় অভিবাসীদের নিয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা এটি সামাল দিতে পারব’, সেই একই দেশের বর্তমান চ্যান্সেলর ফ্রেডেরিখে মার্জ মরক্কোর উদ্দেশে বলেছেন, ‘অবৈধ অভিবাসী ফেরত নিন এখনই।’ 

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ বলছে, এই কট্টর ডান দলগুলো ২০১৫ সালে প্রান্তিক অবস্থায় ছিল। কিন্তু এখন তারা হয় ইউরোপের দেশগুলোতে ক্ষমতায় আছে, না হয় ক্ষমতায় যাওয়ার পথে আছে। ফলে ২০২৬ সালে এসে তারা অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রচলিত বয়ানই বদলে দিয়েছেন। অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে বৈরিতার মুখে পড়া এড়াতে ইউরোপের মধ্যপন্থি নেতারা এরই মধ্যে অভিবাসন নীতিতে অনেকটাই ডান ঘরানার নীতির দিকে ঝুঁকেছেন।

এ প্রসঙ্গে এইচইসি প্যারিসের অভিবাসন ও জলবায়ু ইস্যুর বিশেষজ্ঞ ফ্রানসয়স জেমেন্নে বলেন, ‘যদি মধ্যপন্থি নেতারা এমন কিছু দেখায়, যাতে বোঝা যায় যে তারা এসব ইস্যু নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না, তাহলে তারা এই বয়ানের খেলায় পুরোপুরি হেরে যাবেন। এ কারণে তারাও দেখাচ্ছেন যে তারা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।’ ডেনমার্ক থেকে শুরু করে ফ্রান্স পর্যন্ত নেতারা দ্রুতই স্পেনের এই অভিবাসীর ঢলের বিষয়ে নিন্দা জানিয়েছেন। এমনকি নিজেদের সীমান্তও অভিবাসীদের জন্য কঠোর করে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

২০১৫ সালে সিরিয়া, আফগানিস্তান ও অন্যান্য দেশ থেকে ইউরোপে অভিবাসীর যে ঢল নেমেছিল, তা এখনও সেখানকার বাসিন্দাদের স্মৃতিতে অমলিন রয়েছে। সেবারের অভিবাসী সংকট থেকেই কিছু সমস্যার সূত্রপাত হয়েছিল, যা ইউরোপকে কট্টর ডানের পথে নিয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এখানে মূল সমস্যা অভিবাসী আসা নিয়ে নয়, বরং অনিয়ন্ত্রিতভাবে তাদের পৌঁছানো নিয়ে।

আরও পড়ুন

×