ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জেরুজালেমের ধর্মীয় স্থান ইসরায়েলি দখলের হুমকিতে: জর্ডান

জেরুজালেমের ধর্মীয় স্থান ইসরায়েলি দখলের হুমকিতে: জর্ডান
×

আল-আকসা চত্বরে প্রবেশ করেন সরকার সমর্থিত ইহুদিরা। গত ২৩ জুলাই জেরুজালেমে। ছবি: এএফপি

দ্য গার্ডিয়ান

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ২০:৪৪ | আপডেট: ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ২০:৫৯

জেরুজালেমে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলো ইসরায়েলের দখলের হুমকিতে আছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জর্ডান। এই শঙ্কা থেকে দেশটি বুধবার আরব ও ইসলামি বিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক ডেকেছে। জর্ডানের মতে, দখলের ঘটনা ঘটলে ধর্মীয় সংঘাত শুরু হতে পারে।

অটোমান আমল, হাশেমি রাজতন্ত্র এবং পরবর্তীতে হওয়া একটি চুক্তি অনুযায়ী, জর্ডান আল-আকসা মসজিদসহ জেরুজালেমের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলোর তত্ত্বাবধায়ক। সম্প্রতি আল-আকসা মসজিদ ও ডোম অব দ্য রক-এর আশপাশে সরকার সমর্থিত ইহুদিদের অনুপ্রবেশ বেড়েছে। যেটিকে জর্ডান স্থিতাবস্থা চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী, আল-আকসায় কেবল মুসলমানরাই প্রার্থনা করতে পারবেন।

গত ২৩ জুলাই দুই হাজারের বেশি ইসরায়েলি আল-আকসা চত্বরে ঢুকে পড়েন। তাদের নেতৃত্ব দেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। ইহুদিদের কাছে এই চত্বরটি টেম্পল মাউন্ট নামেও পরিচিত। তারা সেখানে প্রবেশ করে প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার পালন করেন। জর্ডানের কর্মকর্তাদের মতে, এই ঘটনাটি আধুনিক ইতিহাসে স্থিতাবস্থার চরমতম লঙ্ঘন। 

সম্প্রতি টেম্পল মাউন্ট পুলিশ ইউনিটে ইহুদিদের নিয়োগ দেওয়া নিয়েও জর্ডান উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এছাড়া, আগামী সেপ্টেম্বরে ইহুদিদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব পালন হবে। তখন ইসরায়েলি কট্টরপন্থী নেতারা আল-আকসা বা টেম্পল মাউন্টে জর্ডানের তত্ত্বাবধান থাকা নিয়ে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন। কারণ, চলতি বছর ধর্মীয় উৎসব পালন হবে নির্বাচনী আবহের মাঝে। এই নির্বাচনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী জোট টিকে থাকার লড়াই করবে।

জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘এটা বিপজ্জনক হুমকি। আমাদের হাতে থাকা সব উপায় দিয়ে সেটি ঠেকানোর চেষ্টা করছি। আমরা সতর্ক করে বলেছি, স্থিতাবস্থা লঙ্ঘন হলে ধর্মীয় সংঘাত শুরু হতে পারে। এর প্রভাব ফিলিস্তিন ও জর্ডান ছাড়িয়ে পুরো মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে।’

আম্মানে হতে যাওয়া বুধবারের বৈঠকে আরব লীগের দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পাশাপাশি তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা যোগ দেবেন। আয়মান সাফাদি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সজাগ হওয়া উচিত। জেরুজালেম এখন একটি বারুদের স্তূপ।’

জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা বিপদের কথা বোঝানোর চেষ্টা করছি। আইনগতভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ইসরায়েলের পদক্ষেপগুলো অব্যাহত থাকলে, আসন্ন বিপদের বিষয়েও সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছি।’

উল্লেখ্য, অটোমান বা উসমানীয় আমল থেকে জর্ডান আল-আকসা চত্বর তত্ত্বাবধান করছে। ১৮৭৮ সালে বার্লিন চুক্তির মাধ্যমে জেরুজালেমের ধর্মীয় স্থানগুলোতে স্থিতাবস্থা নিশ্চিত করা হয়। পরে বিংশ শতাব্দীতে হাশেমি রাজতন্ত্র খ্রিস্টানদের ধর্মীয় স্থানগুলোও তাদের তত্ত্বাবধানের আওতায় নিয়ে আসে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ১৯৯৪ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তিতেও জর্ডানের তত্ত্বাবধানের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×