ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ওমানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি

হরমুজের নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছে ইরান, ট্রাম্পের চাওয়া পূরণ হচ্ছে না 

হরমুজের নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছে ইরান, ট্রাম্পের চাওয়া পূরণ হচ্ছে না 
×

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি-সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১৬ | আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১৬

কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি চুক্তি চূড়ান্ত রূপ নিতে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই জলপথের ভবিষ্যৎ নির্ধারণী আলোচনায় কূটনৈতিক স্তরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে প্রণালিতে তেহরান একক নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ার বিষয়টি ওয়াশিংটনের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত চুক্তি চাইলেও তা বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। 

সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের মূল লক্ষ্য হলো এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অর্জন করা কৌশলগত সুবিধাগুলো দীর্ঘ মেয়াদে ধরে রাখা। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, হরমুজের আইনি কাঠামো আর সংকট-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যাবে না। 

ইরান ও ওমানের মধ্যকার প্রস্তাবিত চুক্তির মূল ভিত্তি হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের একটি দ্বিমুখী করিডোর তৈরি করা। বর্তমানে প্রণালির দক্ষিণ রুটটি ওমানের জলসীমা এবং উত্তর রুটটি ইরানের জলসীমায় অবস্থিত। প্রস্তাবিত চুক্তিতে উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষা করে দুটি পৃথক রুটের বদলে একটি সমন্বিত মধ্যবর্তী করিডোর গঠন করার কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, চুক্তির খসড়ায় হরমুজ দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করা জাহাজগুলোর ওপর সরাসরি তেহরানের নিয়ন্ত্রণের অধিকার দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ইরানের মধ্যস্থতাকারী প্রতিনিধি দলের সদস্য সাঈদ আজোরলুর মতে, এক থেকে তিন মাসের সাময়িক এই ব্যবস্থার আওতায় মাইন অপসারণ, সামুদ্রিক পরিষেবা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার সিংহভাগ তেহরান পরিচালনা করবে। 

ফি আরোপ নিয়ে টানাপোড়েন 

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্যের মূল্যের ওপর নির্দিষ্ট হারে ফি আরোপের দাবি জানিয়েছে ইরান। তেহরান ৫ থেকে ৭ শতাংশ ফি নির্ধারণের প্রস্তাব দিলেও, ওমান এটিকে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার পক্ষে মত দিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো ধরনের বাধ্যতামূলক টোল আদায়ের তীব্র বিরোধী। কেবল স্বেচ্ছাসেবী সামুদ্রিক সেবার বিনিময়ে সার্ভিস চার্জ দেওয়ার একটি প্রস্তাব নিয়ে দরকষাকষি চলছে। প্রস্তাবিত চুক্তিতে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কোনো না কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়ার বিষয়ে এরই মধ্যে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে নিয়ন্ত্রণের সংজ্ঞা কেমন হবে, সে বিষয়ে এখনও খুঁটিনাটি নির্ধারণ হয়নি। উপসাগরীয় আলোচকরা বলেছেন, আঞ্চলিক দেশগুলোই জাহাজ তদারকি করবে। যে কোনো ধরনের ফি হতে হবে স্বেচ্ছাসেবামূলক। ওয়াশিংটন স্পষ্ট করতে চাচ্ছে, হরমুজ দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি মিললেও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ ও তেল বিক্রির ছাড়পত্র পুনর্বাহাল করা হবে কিনা। এদিকে ট্রাম্প এক বক্তব্যে বলেছেন, তিনি এখনও কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিতে চান। তিনি বলেন, ‘আমি চুক্তি করতে চাই। কারণ, আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না। দুয়েক দিনের মধ্যে সমঝোতা চূড়ান্ত হতে পারে। 

ইরানও উপসাগরীয় দেশগুলোকে পাল্টা সতর্ক করেছে, তার ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে পুরো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানো হবে। একটি উপসাগরীয় দেশের এক সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, ‘ইরানের বার্তা ছিল একেবারে স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবকাঠামোয় হামলা চালালে পাল্টা আঘাত হানবে তারা।’ 

হেগসেথের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন ট্রাম্প

মার্কিন অস্ত্র ও গোলাবারুদের চরম ঘাটতি দেখা দেওয়ায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। গত সপ্তাহে ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্প জানতে চান– অস্ত্রের এমন করুণ দশা কেন তাঁর কাছে গোপন রাখা হলো। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, দূরপাল্লার গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক ঘাটতির কারণেই মূলত ইরানের ওপর নতুন করে বড় কোনো আক্রমণ চালাতে পারছে না ওয়াশিংটন। 
 

আরও পড়ুন

×