ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিশু নিরাপত্তা ইস্যুতে মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

শিশু নিরাপত্তা ইস্যুতে মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা
×

মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। ছবি- সংগৃহীত

বিবিসি

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:০৩ | আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:১২

শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটাকে অতিরিক্ত ৫৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত। শিশু নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আর্থিক দণ্ড।

বৃহস্পতিবার দেওয়া রায়ে বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড বলেন, মেটা এমন একটি ‘জনস্বার্থবিরোধী উপদ্রব’ তৈরি করেছে, যা বায়ুদূষণের মতো সমাজের জন্য ক্ষতিকর। তিনি নির্দেশ দেন, এই অর্থ ভবিষ্যতে শিশুদের ক্ষতি কমাতে একটি বিশেষ তহবিলে জমা দিতে হবে।

এর আগে একই মামলায় মেটাকে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। নতুন জরিমানাসহ কোম্পানিটির মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪২ মিলিয়ন ডলার।

রায়ে বিচারক বলেন, একটি কারখানা যেমন পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি দূষণও সৃষ্টি করে, তেমনি মেটার প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন ও কনটেন্টের পাশাপাশি শিশুদের মানসিক ক্ষতি এবং যৌন শোষণের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

তবে রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব। আমাদের প্ল্যাটফর্মকে নিরাপদ রাখতে আমরা নিয়মিত কাজ করছি এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট ও অপরাধীদের শনাক্ত করে অপসারণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় আমাদের কার্যক্রম নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী।

মামলাটি ২০২৩ সালে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর দায়ের করে। অভিযোগে বলা হয়, মেটার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম শিশু-কিশোরদের ক্ষতিকর ও যৌন বিষয়বস্তু এবং যৌন অপরাধীদের সংস্পর্শে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।

মামলার প্রথম ধাপে আদালত রায় দেন, মেটা নিউ মেক্সিকোর অন্যায্য ব্যবসায়িক কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন বারবার লঙ্ঘন করেছে। আদালতের মতে, কোম্পানির সুপারিশভিত্তিক অ্যালগরিদম তরুণ ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর কনটেন্টের দিকে পরিচালিত করেছে।

দ্বিতীয় ধাপের রায়ে বিচারক বলেন, মেটার কার্যক্রমের প্রভাব এতটাই ব্যাপক যে তা জনস্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকিতে পরিণত হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, জরিমানার অর্থ দিয়ে শিশুদের মানসিক ও আচরণগত সমস্যার চিকিৎসা, কাউন্সেলিং এবং পুনর্বাসন কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। এর মধ্যে ৪২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের চিকিৎসা ও সহায়তায়। এছাড়া শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কার্যক্রমেও অর্থ ব্যয় করা হবে।

শুধু জরিমানাই নয়, মেটাকে শিশুদের নিরাপত্তা জোরদারে একাধিক বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এর মধ্যে রয়েছে— ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট প্রাপ্তবয়স্কদের কাছে সুপারিশ না করা। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের সরাসরি বার্তা (ডিএম) পাঠানো বন্ধ করা। অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে নগ্ন ছবি বা ভিডিও আদান-প্রদান নিষিদ্ধ করা। শিশু যৌন শোষণে জড়িত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ‘ওয়ান-স্ট্রাইক’ নীতি চালু করা। ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য ‘লাইক’ সংখ্যা প্রদর্শন বন্ধ করা। রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত এবং শিক্ষাবর্ষে সপ্তাহের কর্মদিবসে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত পুশ নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা। ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক মিলিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্কদের মাসিক ব্যবহারসীমা সর্বোচ্চ ৯০ ঘণ্টা (গড়ে দিনে প্রায় ৩ ঘণ্টা) নির্ধারণ করা।

আরও পড়ুন

×