ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রাণী

বিলুপ্তির ৭০ বছর পর কাজাখস্তানে বাঘ

বিলুপ্তির ৭০ বছর পর কাজাখস্তানে বাঘ
×

অবমুক্ত করা হচ্ছে বাঘিনি উমিতকে (ছবি-সংগৃহীত)

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৫৮ | আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৫৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

কাজাখস্তান থেকে ৭০ বছরেরও বেশি সময় আগে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল বাঘ। সম্প্রতি দেশটিতে বাঘ আবার ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বনে অবমুক্ত করা হয়েছে উমিত নামে একটি বাঘিনিকে। কাজাখ ভাষায় উমিত শব্দের অর্থ আশা। 

অবমুক্তের অপেক্ষায় রয়েছে আরেকটি বাঘও। সেটিকে আপাতত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শুধু একটি দুটি নয়, তারা চাচ্ছে প্রাকৃতিকভাবে প্রজনন ঘটিয়ে গোটা বাঘের প্রজাতিই আবার দেশে ফিরিয়ে আনতে। কাজাখস্তানের এই প্রচেষ্টা সফল হলে, তারা হবে বিশ্বের প্রথম দেশ, যারা এভাবে বাঘ ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। 

ইউরোনিউজের খবর বলছে, গত মে মাসে রাশিয়া থেকে কাজাখস্তানে চারটি বাঘ আনা হয়। এর মধ্যে শুধু উমিতকে দেশটির ইলে-বালখাশ নেচার রিজার্ভে ছেড়ে দেওয়া হয়। উমিতকেও টানা দুই মাস নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখা হয়েছিল। পুরুষ বাঘটি বনের পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নন বিশেষজ্ঞরা। এ কারণে সেটিকে ছাড়া হয়নি। তবে বাঘটি দ্রুতই প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে মনে করছেন তারা।

এ ছাড়া দুটি বাঘের শাবকও রাশিয়া থেকে এনেছে দেশটি। সেগুলোর বয়স গত মে মাসে ছিল ছয় মাস। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ১৮ মাস বয়স না হওয়া পর্যন্ত শাবকগুলোকে ছাড়া হবে না। ইউরোনিউজের খবর বলছে, আবার বাঘ ফিরিয়ে আনার কর্মসূচিতে দুটি ধাপ রয়েছে। প্রথম ধাপে একটি সুনির্দিষ্ট পরিবেশে বাঘগুলো রাখায় হয়। এর মধ্য দিয়ে মূলত দেশের পরিবেশের সঙ্গে তাদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। আর দ্বিতীয় ধাপে তাদের ইলে-বালখাশ অভয়ারণ্যে অবমুক্ত করা হবে।

অভয়ারণ্যটি সুরক্ষিত এলাকা হলেও কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা নেই। ফলে বাঘগুলো স্বাচ্ছন্দ্যেই ঘোরাফেরা করতে পারবে। উমিতের চলাফেরায় নজর রাখতে জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহার করা হচ্ছে। বাঘিনিটির গলায় একটি ট্র্যাকিং কলার পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশপাশে বসবাসরত বাসিন্দাদের পাঁচ কিলোমিটার বৃত্তের মধ্যে বাঘিনিটি পৌঁছে গেলে তাদের সতর্ক করে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

কাজাখস্তান বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বহু আগে থেকেই। একসময় ওই দেশে বিচরণ করত তুরান প্রজাতির বাঘ। সেগুলো পুরোপুরিই বিলুপ্ত হয়ে গেছে বিশ্ব থেকে। ফলে বিশেষজ্ঞরা অনেক চিন্তাভাবনা করে বেছে নেন আমুর প্রজাতির বাঘকে। এটিকে তুরান বাঘের সবচেয়ে কাছাকাছি প্রজাতি বলা যেতে পারে। 

বিশেষজ্ঞদের সামনে দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জটি ছিল– বাঘের খাবারের ব্যবস্থা করা। একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘ বছরে ৫০ থেকে ৭০টি বড় প্রাণী শিকার করে থাকে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা ২০১৮ সাল থেকে বাঘের শিকার বাড়ানোর কাজে হাত দেয়। বুখারা ও কুলান প্রজাতির হরিণ নিয়ে আসে তারা। সেগুলোকে ধীরে ধীরে বড় করে তোলা হয় ও প্রজনন ঘটানো হয়।

এদিকে, রাশিয়া থেকে গত মে মাসে আনা ওই চার আমুর প্রজাতির বাঘই যে প্রথম চেষ্টা তা নয়। এর আগে ২০২৪ সালে কুমা ও বোধানা নামে দুটি বাঘ নেদারল্যান্ডস থেকে নিয়ে এসেছিল দেশটি। তবে সেগুলোকে আর অবমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। কারণ, বাঘ দুটি পুরো জীবনই কাটিয়েছে খাঁচায়। বনে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার জন্য যে সক্ষমতা, সেটি তাদের তৈরি হয়নি। বিশেষজ্ঞদের পরিকল্পনা, এই বাঘ দুটিকে আবদ্ধ পরিবেশেই রাখবেন তারা, তবে প্রজননে ব্যবহার করবেন। বাঘ দুটির শাবকদের বনের পরিবেশে বড় করে তোলা হবে। 

আরও পড়ুন

×