কলকাতায় আগুন
একটা সময় মনে হয়েছিল মরেই যাব, বললেন বেঁচে যাওয়া এক বাংলাদেশি
কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে অগ্নিকান্ডে বেঁচে যাওয়া এক বাংলাদেশি। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৬:১১ | আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৬:১৮
রাত তখন প্রায় ২টা। ঘুমিয়ে ছিলেন ঢাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আশরাফুল জামাল ও তার ভাই। হঠাৎ চিৎকার-চেঁচামেচিতে ঘুম ভেঙে যায় তাদের। জানালা খুলে নিচে তাকিয়ে দেখেন, লোকজন চিৎকার করে বলছেন, ‘আগুন লেগেছে।’ দরজা খুলে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করতেই ঘরে ঢুকে পড়ে ঘন ধোঁয়া। নিচে নামার পথও তখন বন্ধ। কোনোভাবে ভাইকে নিয়ে ছাদে উঠে যান আশরাফুল। সেখানে আরও ২০ থেকে ২৫ জন জড়ো হয়েছিলেন।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে আগুন লাগার পর এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন সেখানে থাকা বাংলাদেশিরা। এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন, যাদের মধ্যে ৮ জনই বাংলাদেশি।
ঢাকার গাজীপুরের বাসিন্দা আশরাফুল জামাল ব্যবসার কাজে কলকাতায় গিয়েছিলেন। শনিবার থেকে তিনি ও তার ভাই ভবনটির চতুর্থ তলার একটি হোটেলে ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে খাওয়াদাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তারা।
আশরাফুল বলেন, নিচে নামার কোনো সুযোগ ছিল না। ধোঁয়ার মধ্য দিয়ে কোনোভাবে ওই তলার অন্যদের সঙ্গে ছাদে উঠে যান তারা। প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন মিলে পানির ট্যাংকের পাশে অবস্থান নেন। কোন দিক থেকে আগুনের শিখা আসতে পারে, তা বুঝতে পারছিলেন না তারা। আগুন ছড়িয়ে পড়লে ট্যাংকের পানি দিয়ে নেভানোর চেষ্টা করবেন বলেও ঠিক করেছিলেন।
একই হোটেলে ছিলেন ঢাকার আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ নাজমুল সরকার। হৃদ্রোগের চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন তিনি। আগুন লাগার পর তারও নিচে নামার সুযোগ হয়নি। নাজমুল বলেন, ‘একটা সময় মনে হয়েছিল, মরেই যাব। অক্সিজেনের অভাব ছিল। শ্বাস নিতে পারছিলাম না।’
তিনি জানান, হোটেলের কর্মীরা তাদের বারবার ওপরে উঠতে বলছিলেন। কিন্তু ওপরের দিকে যাওয়ার সিঁড়িটি ছিল খুবই সরু। একজন করে উঠতে হচ্ছিল। নিচে তখন ঘন ধোঁয়া। এক হাত দূরের কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। পরে মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে কোনোভাবে ওপরে উঠে যান তিনি।
নাজমুল বলেন, দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ধোঁয়া ঢুকে পড়ছিল। চারপাশ অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। কোথা দিয়ে বের হবেন, সেটিও বুঝতে পারছিলেন না।
বাংলাদেশ থেকে সন্তানকে নিয়ে পরিবারসহ কলকাতায় গিয়েছিলেন কৌসর হোসেন। ভবনের নিচতলার একটি হোটেলে ছিলেন তারা। আগুন লাগার বিষয়টি প্রথমে বুঝতে পারেননি। পরে হোটেলের কর্মীরা দরজায় ধাক্কা দিয়ে তাদের ঘুম থেকে তোলেন। এরপর তাড়াহুড়ো করে বাইরে বেরিয়ে আসেন তারা।
তবে বাইরে বের হওয়ার পর কৌসরের মনে পড়ে, তাদের পাসপোর্ট হোটেলের ঘরে রয়ে গেছে। পরে পাসপোর্ট আনতে আবার ভবনের ভেতরে ঢুকেছিলেন তিনি।
অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আবাসিকদের অভিযোগ, সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ছিল না। ভবনটির সরু প্রবেশপথ ও সিঁড়ির কারণে আগুন লাগার পর বের হতে আরও সমস্যায় পড়তে হয়।
দমকলের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। তাদের তৎপরতায় বহু আবাসিককে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়। তবে ঘন ধোঁয়ার কারণে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। সূত্র- আনন্দবাজার পত্রিকা
- বিষয় :
- কলকাতা
- ভারত
- আগুনে পুড়ে মৃত্যু
- বাংলাদেশি