রাশিয়ার সহায়তায় বন্দর নির্মাণে জোরপূর্বক জমি খালি করছে মিয়ানমার
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং। ১৮ আগস্ট, মস্কোতে। ছবি: এএফপি
রয়টার্স
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:১৩ | আপডেট: ২১ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:২৮
মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলে রাশিয়ার সহায়তায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। এর জন্য নির্ধারিত এলাকা খালি করতে শত শত সেনা মোতায়েন করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। এ বিষয়ে অবগত স্থানীয় এক অধিকারকর্মী ও প্রতিরোধযোদ্ধারা জানিয়েছেন, সেনারা অভিযান চালিয়ে গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে। আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
আন্দামান সাগরের তীরে দাওয়েই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে (এসইজেড) ঘিরে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। সেখানে গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। এই প্রকল্পটিকে মালাক্কা প্রণালির কৌশলগত বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেনাদের অভিযান ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রকল্পটি চালু করতে মিয়ানমারের সরকার বলপ্রয়োগেও প্রস্তুত।
এই উদ্যোগের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার করেছে মিয়ানমার। চলতি মাসে থাইল্যান্ডে গুরুত্বপূর্ণ এক সফরে যান জান্তা প্রধান থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং হ্লাইং। সেখানে তিনি দাওয়েইকে দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ার সম্ভাব্য প্রবেশদ্বার হিসেবে তুলে ধরেন। এরপর রাশিয়া সফরে গিয়ে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকেও তিনি প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা করেন।
দাওয়েই শহরটির অবস্থান থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী তানিনথারি অঞ্চলে। গত জুলাই মাস থেকে এ অঞ্চলে শত শত সেনা পাঠিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। সরকারের সঙ্গে গৃহযুদ্ধে জড়িত স্থানীয় প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গেও সেনাদের সংঘর্ষ হয়েছে। দুটি সূত্র জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে প্রতিরোধযোদ্ধারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
তানিনথারি রিজিয়ন পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের সাও দাহ কো রয়টার্সকে বলেন, ‘সেনাবাহিনী বিভিন্ন দিক থেকে অগ্রসর হচ্ছে। এলাকাগুলো খালি করতে অভিযান চালাচ্ছে। কয়েকটি গ্রাম ও বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’
ছায়া সরকার হিসেবে পরিচিত ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের অধীনে পরিচালিত দাওয়েই ডিস্ট্রিক্ট ১ নম্বর ব্যাটালিয়নের আরেক প্রতিরোধযোদ্ধা জানান, সেনারা অন্তত তিনটি গ্রামের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করা তিনজন ত্রাণকর্মীকেও হত্যা করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই যোদ্ধা বলেন, ‘তারা (সামরিক বাহিনী) দাওয়েই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি চালু করতে চায়। সে জন্য এখানকার এলাকা খালি করার উদ্যোগ নিয়েছে।’ স্থানীয় নাগরিক সমাজের সংগঠন ম্যাগা ইনিশিয়েটিভ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ৯ জুলাই ইয়েবু টাউনশিপে সেনাবাহিনীর একটি দলের মুখোমুখি হওয়ার পর তিন ত্রাণকর্মীকে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে হত্যা করে সেনারা।
রয়টার্স স্বাধীনভাবে এসব তথ্য যাচাই করতে পারেনি। মন্তব্যের জন্য মিয়ানমার সরকার ও দেশটিতে অবস্থিত রাশিয়ার দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সাড়া পায়নি।
- বিষয় :
- সমুদ্রবন্দর
- আন্দামান
- মিয়ানমার
- রাশিয়া