ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারত

এবার নতুন আন্দোলনে ককরোচ জনতা পার্টি

এবার নতুন আন্দোলনে ককরোচ জনতা পার্টি
×

ভারতের শিক্ষা অবকাঠামোর জরাজীর্ণ অবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছে সিজেপি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:০১

এবার ভারতের শিক্ষা অবকাঠামোর জরাজীর্ণ অবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সম্প্রতি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারে আন্দোলন শুরু হলেও, বর্তমানে তারা দেশের সরকারি স্কুলগুলোর জরুরি সংস্কারের দাবিতে প্রচারণা চালাচ্ছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, দিল্লির ফরিদাবাদের একটি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দিকে তাকালে ভারতের শিক্ষা অবকাঠামোর করুণ দশা স্পষ্ট হবে। বাইরে থেকে নতুন রঙের প্রলেপ দেওয়া থাকলেও স্কুলটির ভেতরের অবকাঠামো অত্যন্ত ভঙ্গুর। সেখানে আটটি শৌচাগারের মধ্যে চারটিই আবর্জনায় পূর্ণ এবং ব্যবহারের অনুপযোগী। নয়টি শ্রেণিকক্ষের মধ্যে চারটি এরই মধ্যে পরিত্যক্ত। 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতে প্রায় ৯৪ হাজার সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্ব গড় এবং দেশটির জাতীয় শিক্ষানীতির সুপারিশকৃত ৬ শতাংশ লক্ষ্যের বিপরীতে ভারত সরকার শিক্ষা খাতে মোট জিডিপির মাত্র ৪ দশমিক ১ শতাংশ ব্যয় করে থাকে। পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের অভাবে গ্রামীণ অঞ্চলের সরকারি স্কুলগুলো জরাজীর্ণ পড়ে রয়েছে। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ২০টিরও বেশি গ্রামীণ স্কুল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, তিনি কোথাও ন্যূনতম মানসম্মত অবকাঠামো পাননি। অধিকাংশ স্কুলে বেঞ্চ, পরিষ্কার শৌচাগার ও নিরাপদ পানির সংকট রয়েছে।

হরিয়ানার প্রাইমারি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি ও প্রবীণ শিক্ষক চতার সিং জানান, নিয়মিত পাঠদানের বাইরেও শিক্ষকদের ঘনঘন নির্বাচন পরিচালনা বা ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো কাজে মোতায়েন রাখা হয়, যা স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমকে ব্যাহত করে।

রাজস্থানে হামলার শিকার সিজেপি
শিক্ষা অবকাঠামো সংস্কারের আন্দোলনের মধ্যে রাজস্থানের জয়পুরের কাছে একটি সরকারি স্কুল ‘পরিদর্শনে’ গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধিরা। বিদ্যালয়টি মহিষের গোয়াল ঘর থেকে পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেছেন, পাথর ছুড়ে তাদের গাড়ির কাচ ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং কর্মীদের নির্যাতন করা হয়েছে। এ হামলার জন্য তিনি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলওয়ার ও কিছু স্থানীয়কে দায়ী করেছেন।

শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি, এফআইআরের দাবি রাহুলের
এদিকে, সম্প্রতি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের ছররা গুলি চালানোর প্রতিবাদে এবং এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের দাবিতে নয়াদিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর সঙ্গে সাহিল লোচাব নামের এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন, যাঁর শরীরে ২০০টি এবং চোখে ৩টি ছররা গুলি গেঁথে রয়েছে। অবশ্য পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট এরই মধ্যে ঘটনাটি তদন্ত করছে।

আরও পড়ুন

×