মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে নতুন সদস্য নেওয়ার সুযোগ আছে: পাকিস্তান
ছবি: আরব নিউজ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ০০:০১
পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে (এমজেডিএ) নতুন দেশ যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। তবে কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার আবেদন করলে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পরামর্শ করেই তা বিবেচনা করা হবে।
বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এ কথা বলেন।
তাহির আন্দ্রাবি বলেন, ‘একটি বিকাশমান নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে এমজেডিএ এমন দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত, যারা সম্মিলিত দায়িত্ব ও অভিন্ন নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্বার্থের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ।’
তিনি আরও বলেন, কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানালে রিয়াদ ও আঙ্কারার সঙ্গে পরামর্শ করে তা বিবেচনা করা হবে।
তবে চুক্তিটি কার্যকর করার প্রক্রিয়া এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার আলোচনা
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে। গত সপ্তাহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ আরব নিউজকে জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে এখনো নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
চুক্তিতে বাংলাদেশসহ অন্য কোনো দেশ শেষ পর্যন্ত যোগ দেবে কি না, সে বিষয়ে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের মুখপাত্র নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। তবে নতুন সদস্য নেওয়ার সুযোগ থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাব এলে তা অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে বিবেচনা করা হবে।
কী আছে চুক্তিতে
চলতি মাসের শুরুতে মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো- তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি তেল ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও পড়েছে।
পাকিস্তান বিশ্বের অন্যতম বড় সক্রিয় সামরিক বাহিনীর দেশ এবং মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র। সৌদি আরবের রয়েছে বড় অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আঞ্চলিক প্রভাব ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো। অন্যদিকে তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং দেশটির বড় সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি শক্তিশালী নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প রয়েছে। ফলে তিন দেশের এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে এর আগেও সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুই দেশ কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি (এসডিএমএ) স্বাক্ষর করে। ওই চুক্তিতেও একটি দেশের ওপর হামলাকে উভয় দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়।
নতুন মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে।
- বিষয় :
- পাকিস্তান
- নতুন সদস্য
- বাংলাদেশ
- সৌদি আরব
- তুরস্ক