ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বৈরিতার মুখে মালয়েশিয়ায় আশ্রিত রোহিঙ্গারা

বৈরিতার মুখে মালয়েশিয়ায় আশ্রিত রোহিঙ্গারা
×

মালয়েশিয়ায় অবস্থান করা দুই রোহিঙ্গা নারী ও তাদের সন্তান

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৩:০৪

বেশি দিন আগের কথা নয়, মালয়েশিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাঁর দেশে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ২০১৭ সালে নাজিব রাজাক বলেছিলেন, ‘আমাদের অবশ্যই তাদের সুরক্ষা দিতে হবে। শুধু তারা আমাদের ধর্মের বলে নয়, বরং তারাও মানুষ, তাদের জীবনেরও মূল্য রয়েছে।’ ওই সময় মিয়ানমার থেকে পালিয়ে অনেক রোহিঙ্গাই মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমায়। এমনকি পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া অনেক রোহিঙ্গাও সমুদ্র পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়ায় চলে যায়। কিন্তু নাজিব রাজাকের সুরক্ষার প্রতিশ্রুতির ৯ বছর পর এখন দেশটিতে ছড়িয়ে পড়ছে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বৈরিতার ঢেউ।

শিশুদের স্কুলে যাওয়া বিপজ্জনক

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা শিশুরা মালয়েশিয়ার সরকারি স্কুলে পড়ার সুযোগ পায় না। তাই তারা প্রায়ই অননুমোদিত ও কমিউনিটি পরিচালিত অনানুষ্ঠানিক ‘স্কুলে’ যায়। মালয়েশিয়ায় আশ্রিত এক রোহিঙ্গা জানান, উত্তর মালয়েশিয়ায় ছয় থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য তিনি একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। তবে গত মাসে পুলিশ স্কুলটিতে অভিযান চালায়। পুলিশ আকস্মিক ভেতরে ঢুকে কিছু শিক্ষার্থীকে বাড়ি চলে যেতে বলে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে সম্প্রতি সেলাঙ্গরের একটি স্কুল এক মাসের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, শিক্ষার্থীরা ইউনিফর্ম পরতে পারবে না এবং ক্লাস শেষে ভিড় না করে সরাসরি বাড়ি ফিরে যাবে। সংবাদমাধ্যম বলছে, এ ধরনের অভিযান প্রায়ই স্থানীয়দের চাপে পড়ে করা হয়। এসব কারণে সম্প্রতি কিছু স্কুল বন্ধও হয়ে গেছে।

মূলধারার রাজনীতিতে বিদ্বেষ

মালয়েশিয়ায় মূলধারার রাজনীতিতেও রোহিঙ্গাবিরোধী বক্তব্য স্পষ্ট হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সম্প্রতি বলেছেন, মালয়েশিয়ার নাগরিকদের জীবন কাউকে বিঘ্নিত করতে দেওয়া হবে না। এই পরিস্থিতিতে মিয়ানমার দেশটি থেকে পাঁচ হাজার শরণার্থী ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বেশির ভাগই মিয়ানমারে ফিরতে চায়

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মতে, এক লাখ ২৬ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা মালয়েশিয়ায় পুনর্বাসিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের পর রোহিঙ্গাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম আশ্রয়দাতা দেশ। দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্রয়প্রার্থীদের স্বীকৃতি দেয়নি। যার ফলে শরণার্থীদের আবাসন, কর্মসংস্থান বা শিক্ষার অধিকার নেই। তবুও অনেক রোহিঙ্গা মালয়েশিয়াকে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সুযোগের স্থান হিসেবে দেখে এসেছে। তবে মহামারির সময় এবং সম্প্রতি চলতি বছর সামাজিক মাধ্যমের উস্কানিতে সেই সুযোগ তিক্ততায় রূপ নিয়েছে।

২৯ সেপ্টেম্বর থেকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার শুরু

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন কর্মসূচির প্রথম ধাপ চূড়ান্ত করেছে মালয়েশিয়া। এর অংশ হিসেবে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর এক হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা নিজ দেশে ফিরবেন। গত বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে কুয়ালালামপুর। আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য বলা হয়। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় মিয়ানমারের দুটি নৌ যুদ্ধজাহাজ এবং একটি হাসপাতাল জাহাজ ব্যবহার করা হবে।

আরও পড়ুন

×