ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জার্মানিতে ‘হামলার’ ঘটনায় রাশিয়াকে জবাব দেবে ইইউ-ন্যাটো

জার্মানিতে ‘হামলার’ ঘটনায় রাশিয়াকে জবাব দেবে ইইউ-ন্যাটো
×

ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন। ফাইল ছবি: এপি

বিবিসি

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:১৪ | আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:২৬

জার্মানির লিপজিগ বিমানবন্দরে একটি ‘ব্যর্থ’ ড্রোন হামলার জন্য মস্কোকে দায়ী করছে বার্লিন। এ ঘটনায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট ও ন্যাটো মহাসচিব। রাশিয়া ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে উল্লেখ করে তারা দেশটিকে জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন ও ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বৈঠক করেছেন। এরপর উরসুলা বলেন, লিপজিগের ঘটনাটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূখণ্ডে নতুন করে উত্তেজনার নমুনা। 

উরসুলা বলেন, ‘আমাদেরকে আরও জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। এর অর্থ হলো, রাশিয়ার বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের জবাব আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’ অপরদিকে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো জোট জার্মানির প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে।

জার্মানির অভিযোগ, গত ৪ আগস্ট লিপজিগ বিমানবন্দরে বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন ইচ্ছাকৃতভাবে ইউক্রেনের একটি কার্গো বিমানে হামলা করে। তবে রাশিয়া এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

লিপজিগ বিমানবন্দরে প্রথমে একটি ড্রোন রোবটের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, আরেকটি ড্রোন কার্গো বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এ ঘটনার ১০ দিন পর বিমানবন্দরটিতে তৃতীয় ড্রোনের উপস্থিতি দেখা যায়। 

বিমানবন্দরটি ন্যাটোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। সেখানে ইউক্রেনের আন্তোনভ পরিবহন বিমান নিয়মিত চলাচল করে। ড্রোন হামলার সঙ্গে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে মঙ্গলবারের আগে জার্মান সরকার কিছু জানায়নি। সম্প্রতি দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ড্রোনটির কাঠামো, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, বিস্ফোরক এবং ডেটোনেটর- সবকিছুই রাশিয়ার আগের ‘হাইব্রিড অপারেশনের’ সঙ্গে মিল আছে।

লিপজিগে হামলার ঘটনায় দুজন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের একজন রাশিয়ার পাসপোর্টধারী ও বেলারুশের নাগরিক। তিনি পর্যটন ভিসায় জার্মানিতে গিয়েছিলেন। অন্যজনের কাছে লাটভিয়া ও রাশিয়ার পাসপোর্ট ছিল। তিনি হামলার দুইদিন আগে জার্মানি থেকে চলে যান।

মস্কোর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলার পর বনে অবস্থিত রুশ কনস্যুলেট ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রাশিয়ান হাউস বন্ধ করে দিয়েছে বার্লিন। এর জবাবে মস্কো একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। তারা বলেছে, অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও জার্মানির পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এটিকে গুরুতর ভুল অভিহিত করে বলেছেন, বিষয়টি স্পষ্টতই জার্মানির জনগণের স্বার্থ পরিপন্থী।

মস্কোর হামলার প্রতিক্রিয়ায় বার্লিনের জবাব তুলনামূলক দুর্বল ছিল বলে মনে করছেন জার্মানির সমালোচকরা। তবে জার্মানি মিত্রদের সঙ্গে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে চাইছে। এর মধ্যে আছে ইইউ জুড়ে রুশ নাগরিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ।

উরসুলা ফন ডার লায়েন বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূখণ্ডে রুশ এজেন্টরা সামরিক মানের উপাদান ব্যবহার করেছে। এটি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

এদিকে আয়ারল্যান্ডে পৃথক বৈঠক করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। সেখানে ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রীরা জানান, হামলার প্রতিবাদে তাঁরা রুশ রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছেন।

আরও পড়ুন

×