কিয়েভের বিমানবন্দরে রাশিয়ার হামলা
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:০৫
রাশিয়া গত শুক্রবার রাতে কিয়েভের বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এমন একটি সময়ে এই হামলা হলো, যখন ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দূতদের যাওয়ার কথা রয়েছে। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ অবসানের আলোচনার লক্ষ্যে তারা যাচ্ছেন সেখানে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, দূতদের মধ্যে তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার ও এর আগে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা স্টিভ উইটকফ থাকবেন। গত শুক্রবার এসব তথ্য জানান তিনি। শুধু ইউক্রেনে নয়, মস্কোতেও আলোচনা করবেন কুশনার ও উইটকফ।
ইউক্রেনের এক কর্মকর্তা ট্রাম্পের বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আজ রোববার নাগাদ মার্কিন দূতদের ইউক্রেনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। অন্যদিকে বার্তা সংস্থা এএফপির খবর বলছে, গতকাল শনিবার প্রথমে মস্কো ও পরে রোববার কিয়েভে যাওয়ার কথা দূতদের। ক্রেমলিন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে, ট্রাম্পের দূত পাঠানোর কয়েক ঘণ্টা আগেই কিয়েভে ইউক্রেনের গোয়েন্দা বাহিনী এসবিইউর সদরদপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালায় রাশিয়া। যুদ্ধ শুরুর পর এবারই প্রথম এত বড় মাপে হামলার ঘটনা ঘটল। নজিরবিহীন হামলার ঘটনার পরও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি মার্কিন দূত সফরকালে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দিক থেকে কোনো হামলার ঘটনা ঘটবে না এবং রাশিয়াকেও একইভাবে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে এই আলোচনা চলাকালে।’
কিয়েভে হামলা ছাড়াও ইউক্রেনের দিনিপ্রোতে এক বেসামরিক লক্ষ্যে আঘাত হেনেছে রাশিয়া। এতে অন্তত চার ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এসব হামলা প্রসঙ্গে জেলেনস্কি সামাজিক মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘স্পষ্টতই বিমানবন্দরে এসব হামলা আলোচনা ও মার্কিন দূতদের ইউক্রেনে বিমানের মাধ্যমে আসার সম্ভাব্যতার প্রস্তুতির প্রতিক্রিয়ায় চালানো হচ্ছে। ইউক্রেনীয় পাশ থেকে কূটনীতি হুমকির মুখে নেই।’
এবারই প্রথম ট্রাম্পের দূত কুশনার ও উইটকফ যুদ্ধবিধ্বস্ত কিয়েভ পরিদর্শন করবেন। গত বছর ট্রাম্প যুদ্ধ নিরসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও তারা ইউক্রেনে পা রাখেননি বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
গত শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ‘আমি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে পাঠাচ্ছি, দুই সুচারু আলোচক। তারা আগেও ভালো ভূমিকা রেখেছে। আমি তাদের পাঠিয়েছি দেখার জন্য যে কিছু করা যায় কিনা। ভালো সম্ভাবনাও রয়েছে যে আমরা কিছু করতে পারব। তারা যুদ্ধ অবসানের প্রস্তাব নিয়ে সেখানে যাচ্ছে।’
তবে প্রস্তাবে ইউক্রেনের ভূখণ্ড ছাড় দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে কিছু জানাননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি শুধু এর আগে বলেছেন, ‘আমাদের শান্তির একটি আইডিয়া রয়েছে।’
উইটকফ ও কুশনার এর আগে গাজা ও ইরানে আলোচক হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন এবং এর আগে একাধিকবার ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের আলোচনা করতে মস্কোতে সফর করেছেন। তবে ইউক্রেনে এবার তাদের যাওয়ার পরিকল্পনা, বিশেষ করে সফরে বিমান ব্যবহার করার বিষয়টি বেশ নতুন। কারণ, রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে। কিয়েভে এ পর্যন্ত অন্যান্য দেশের প্রধানরা ট্রেনে যাতায়াত করেছেন।
ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে এর আগে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে সেটি ইরান যুদ্ধের আবহে স্থবির হয়ে যায়। এ সময়টিতে মস্কো ও কিয়েভ একে অন্যকে লক্ষ্য করে হামলার মাত্রাও বৃদ্ধি করেছে। এতে বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও বেড়েছে।
- বিষয় :
- রাশিয়া
- হামলা
- ইউক্রেন
- ভলোদিমির জেলেনস্কি