ঢাকা রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে জখম তিন নারীকে মারধর

যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে জখম  তিন নারীকে মারধর
×

সোনারগাঁয়ের বস্তুল এলাকায় গত শুক্রবার যুবদল কর্মীর বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর সমকাল

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

সোনারগাঁয়ের মসজিদ কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে মোহাম্মদ হোসেন নামে এক যুবদল কর্মীসহ ৪ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ সময় তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরের আসবাব ভাঙচুর, লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। হামলার সময় ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলির ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় জামপুর ইউনিয়নের বস্তল উত্তরপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। 
আহত মোহাম্মদ হোসেনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মারধরে শিকার হয়েছেন তাঁর স্ত্রী, মা ও বোন। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, জামপুর ইউনিয়নের বস্তল উত্তরপাড়া জামে মসজিদের সভাপতি পদে রয়েছেন যুবদল কর্মী মোহাম্মদ হোসেনের শ্বশুর বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ মিয়া। কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সভাপতি পরিবর্তন করতে চান একই এলাকার জালাল উদ্দিনের ছেলে বিএনপি কর্মী মাসুদ মিয়া, তাঁর ভাই রোকন উদ্দিন ও মামুন মিয়া। এ নিয়ে গত শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে রোকন উদ্দিনের সঙ্গে মোহাম্মদ হোসেনের কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় মোহাম্মদ হোসেন রোকন উদ্দিনকে থাপ্পড় দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ধ্যায় রোকন উদ্দিনের নেতৃত্বে বস্তল এলাকার মাসুদ মিয়া, মামুন মিয়া, শেখ সাদি, আরিফ হোসেন, আলী হোসেন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মোহাম্মদ হোসেনের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন হামলাকারীরা। ঘরে ঢুকে আসবাব ভাঙচুর করেন। এ সময় মোহাম্মদ হোসেনকে কুপিয়ে জখম করেন তারা। তাঁর স্ত্রী তুলি আক্তার, মা নূর বানু ও বোন ইয়াসমিনকে পিটিয়ে আহত করা হয়। আহতদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহত ইয়াসমিন জানান, তাঁর ভাই মোহাম্মদ হোসেনকে কুপিয়ে জখম করেছে হামলাকারীরা। তাদেরও মারধর করেছে। হামলাকারীরা ঘরের আসবাব ভাঙচুর ও বাড়িতে থাকা নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও আনুমানিক ১০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে।

বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও অভিযুক্তদের পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর তারা গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম সানোয়ার বলেন, ‘হামলার ঘটনায় কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসেনি। তবে শুনেছি হামলার ঘটনাটি ব্যক্তি কেন্দ্রিক। ঘটনাটি মানুষের মুখে শুনেছি। রাজনৈতিক ঘটনা হলে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 
তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক জসিমউদ্দীন জানান, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবার গুলি ছোঁড়ার অভিযোগ করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সোনারগাঁ থানার ওসি আব্দুল বারিক বলেন, হামলা ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন

×