সাত শর্ত পূরণ করেও হয়নি পৌরসভা নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত
আবদুর রহিম, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার ১০টি পৌরসভা থাকলেও নাগরপুর ও দেলদুয়ার উপজেলায় কোনো পৌরসভা নেই। পৌরসভা না হওয়ায় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত উপজেলা সদরের বাসিন্দারা। এই অবস্থায় দ্রুত পৌরসভা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।
নাগরপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও বিআরডিবির চেয়ারম্যান আহম্মদ আলী রানা অভিযোগ করে বলেন, টাঙ্গাইলের সবগুলো উপজেলায় পৌরসভা গঠিত হলেও শুধু রাজনৈতিক ব্যর্থতার কারণে নাগরপুরে পৌরসভা হয়নি। পৌরসভা গঠিত হলে উন্নত রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবা প্রাপ্তি আরও সহজ ও দ্রুত হবে। এতে সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি বাড়বে।
জানা গেছে, ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে নাগরপুর উপজেলা গঠিত। লোকসংখ্যা তিন লাখ ১৯ হাজার ২৯৬ জন। এর মধ্যে নাগরপুর সদর ইউনিয়নে বসবাস করে ৩২ হাজার ৫৪২ জন। তিনটি কলেজ, চারটি উচ্চ বিদ্যালয়, ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে এই ইউনিয়নে। ১৩টি গ্রাম ও তিনটি ডাকঘর নিয়ে সদর ইউনিয়নের আয়তন ৫ দশমিক শূন্য ৫৯ বর্গমাইল। শিক্ষার হার ৪৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। সাতটি মৌলিক শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পৌরসভা গঠনের নিয়ম রয়েছে। প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব হতে হবে দুই হাজার। ৭৫ শতাংশ পেশাজীবী হবে অকৃষি নির্ভর। শতকরা ৩৩ ভাগ ভূমি হবে অকৃষি প্রকৃতির। সেই হিসেবে নাগরপুর সদর অনেক আগে পৌরসভা হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। নাগরপুর সদর-সংলগ্ন সহবতপুর, গয়হাটা ও মামুদনগর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম নিয়েও নাগরপুর পৌরসভা গঠিত হতে পারে। নাগরপুর সদর ও আশপাশের এলাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ণ এবং নাগরিক সেবার চাহিদা বিবেচনায় পৌরসভা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। পৌরসভা গঠিত হলে পরিকল্পিত নগরায়ণ, সড়ক ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং অন্যান্য নাগরিক সেবা সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পৌর এলাকায় সেতু, কালভার্ট, পার্ক, খেলার মাঠ হবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ ও উন্নয়নের জন্য পৌরসভা কাজ করবে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং দীর্ঘদিনের নাগরিক সেবার উন্নয়ন ঘটবে।
নাগরপুর উপজেলা জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক আব্দুস সালাম জানান, নাগরিক সমাজের জীবনমান উন্নয়নের জন্য পৌরসভা গঠিত হওয়া জরুরি। পৌরসভা হলে নাগরিকরা যেমন সেবা পাবেন, তেমনই অবকাঠামোর উন্নয়ন হবে। তাই দীর্ঘদিন পৌরসভার দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিুবর রহমান হবির ভাষ্য, (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আওয়ামী লীগ সরকার নাগরপুরে কোনো উন্নয়ন করেনি। টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় ১০টি পৌরসভা থাকলেও নাগরপুরে হয়নি। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্ত রক্ষা করেনি। শহরাঞ্চলে মানুষের দোরগোড়ায় নাগরিক সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য পৌরসভা প্রয়োজন।
নাগরপুর সদর ইউপির পাঁচবারের চেয়ারম্যান ও তিনবারের উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ দুলাল বলেন, পৌরসভা হলে নিজের আহরিত রাজস্ব দিয়ে তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে হয়। পাশাপাশি নাগরিক সেবায় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হয়। কিন্তু দেশের কোনো পৌরসভা নিজস্ব রাজস্ব দিয়ে চলতে পারে না। মাঝে মধ্যে সরকার থেকে কিছু অনুদান দেওয়া হয়। দাতাগোষ্ঠীও এগিয়ে আসে। তখন অবকাঠোমোসহ সার্বিক উন্নয়ন হয়। মোটকথা রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে পৌরসভা করা সম্ভব নয়।
টাঙ্গাইল-৬ আসনের এমপি রবিউল আওয়াল এরই মধ্যে নাগরপুর ও দেলদুয়ার পৌরসভার দাবিতে সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নত জীবন ও পর্যাপ্ত নাগরিক সেবার প্রত্যাশায় অধিক সংখ্যক মানুষ শহরমুখী হচ্ছে। একই সঙ্গে শহর এলাকার মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবকাঠামো নির্মাণ হচ্ছে। সুশাসন নিশ্চিত ও পর্যাপ্ত সেবাদানে পৌরসভা গঠন জরুরি।
- বিষয় :
- পৌরসভা