ঢাকা সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শজিমেকে রোগীর স্বজনদের ওপর হামলার বিচার দাবি

শজিমেকে রোগীর স্বজনদের ওপর হামলার বিচার দাবি
×

 বগুড়া ব্যুরো 

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২১ | আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে দায়ী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিচার এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে শহরের বিসিক এলাকায় সড়কে ১৮ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় শতাধিক বাসিন্দা অংশ নেন।

মানববন্ধনে নিহত আব্দুল মালেকের মেয়ে মনিকা বেগম অভিযোগ করেন, তাঁর বাবাকে ভুল ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসার নথি পরীক্ষা করে তাঁরা দেখতে পান, আব্দুল মালেকের পরিবর্তে ইখলাস নামের অন্য এক রোগীর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী তাঁর বাবাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

মনিকা বেগম আরও বলেন, বিষয়টি ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জানানো হলে তাঁরা ভুল স্বীকার না করে স্বজনদের সঙ্গে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে স্বজনদের মারধর করা হয়। তাঁর অভিযোগ, পরে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং নতুন করে ফাইল তৈরি করা হয়।

তিনি বলেন, ‘আমার বাবাকে ভুল ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলা হলো। প্রতিবাদ করায় ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা আমাদের ওপর হামলা করে। আমার ছেলে ও তার বন্ধুদের একটি কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের মামলা দেওয়া হয়েছে।’ ভুল চিকিৎসায় তাঁর বাবার মৃত্যুর তদন্ত ও বিচার এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবি জানান তিনি।

মানববন্ধনে গ্রেপ্তার প্রান্তের মা নাজনীন আক্তার ও নাফিউলের স্ত্রী মিতু খাতুন অভিযোগ করেন, চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে ১৫ থেকে ১৬ জন আহত হওয়ার কথা বলা হলেও তাঁদের কাউকে গণমাধ্যমের সামনে আনা হয়নি। তাঁদের দাবি, চিকিৎসকদের হামলায় রোগীর স্বজনেরাই গুরুতর আহত হয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী পরিবার। হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টারসহ ৩০ থেকে ৪০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসককে আসামি করে বগুড়া সদর থানায় একটি এজাহারও দাখিল করা হয়। ওই এজাহার এখনও এন্ট্রি করেনি পুলিশ। 

বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী বলছেন, রোগীর স্বজনদের দেওয়া অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত করে পরে রেকর্ড করা হবে।
এদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা শুক্রবার দুপুর থেকে কাজে যোগ দিয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুক্রবার রাত ১২টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও হাসপাতালে সব ধরনের স্টাফদের নিয়ে সভা করে। সেখানে বলা হয়, আর যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর ই মোর্শেদ বলেন, রাতে সবাইকে নিয়ে বসে হাসপাতালে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। 

গত মঙ্গলবার রাতে ভুল চিকিৎসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর চার দফা দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। 

আরও পড়ুন

×