ঢাকা রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিকে খাস দেখিয়ে আটকা ক্ষতিপূরণ

ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিকে খাস দেখিয়ে আটকা ক্ষতিপূরণ
×

 নিজস্ব প্রতিবেদক, উত্তরাঞ্চল 

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

আদালতের রায়ের ভিত্তিতে একটি জমি সরকারি খাস খতিয়ান থেকে অবমুক্ত করেছিল প্রশাসন। মালিকদের নামে নতুন খতিয়ানও তৈরি করা হয়। পরে একই জমি আবার সরকারি খাস দেখিয়েছে বগুড়া জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখা। তাই জমিটি অধিগ্রহণ করা হলেও ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করা হয়। এ কারণে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের আবেদন সাড়ে চার মাস ঝুলিয়ে প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং এলএ শাখার এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দিয়েছেন জমির মালিক বগুড়া শহরের সেউজগাড়ী এলাকার বাসিন্দা তানজিজুল ইসলাম স্মরণ। 

নথি অনুযায়ী, সাসেকের আওতাধীন ঢাকা-বগুড়া-রংপুর মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া মৌজার তিন শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয়। সিএস খতিয়ান ও ধারাবাহিক রেজিস্ট্রি দলিল অনুযায়ী জমিটির স্বত্বাধিকারী রেবেকা সুলতানা, তানজিজুল ইসলাম স্মরণ ও রাফিউল ইসলাম। তাদের দাবি, অধিগ্রহণের সময়ের মূল্য অনুযায়ী আইন অনুসারে তিন গুণ হারে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা।

জমিটি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত হওয়ায় ২০১৩ সালে সারিয়াকান্দি সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন রেবেকা সুলতানা। ২০১৬ সালে আদালত বাদীর পক্ষে জমির স্বত্ব ঘোষণা করে রায় ও ডিক্রি দেন। সরকারপক্ষ আপিল করলেও ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর বগুড়ার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালত রায় বহাল রাখেন। পরে বগুড়ার সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় জানায়, ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে কোনো সিভিল রিভিশন করা হয়নি এবং রেকর্ড সংশোধনে আইনি বাধা নেই। এর ভিত্তিতে ২০২১ সালের ১১ জুলাই শাজাহানপুর উপজেলা এসিল্যান্ড জমিটি খাস খতিয়ান থেকে অবমুক্ত করে রেবেকা সুলতানা ও তানজিজুল ইসলাম স্মরণদের নামে ২৫৪ নম্বর খতিয়ান তৈরি করেন।
২০২৩ সালে এলএ শাখা জমি অধিগ্রহণের জন্য ৪ ধারার নোটিশ দেয়। গত ৩১ মার্চ ক্ষতিপূরণের আবেদন করেন মালিকরা। সাড়ে চার মাস পর এলএ শাখা আবেদনটি নামঞ্জুর করে। কারণ হিসেবে বলা হয়, আরএস রেকর্ডে জমিটি সরকারি খাস এবং আবেদনকারীরা দখলে নেই।

তানজিজুল ইসলাম স্মরণ বলেন, প্রশাসনই আদালতের রায়ের ভিত্তিতে জমি খাসমুক্ত করে আমাদের নামে খতিয়ান দিয়েছে। খাজনাও নিয়েছে। এখন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সময় আবার সেই জমিকে খাস বলা হচ্ছে। সব কাগজপত্র দেওয়ার পরও আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সম্প্রতি দুদকের বগুড়া জেলা কার্যালয়ে অভিযোগ দেন তিনি। অভিযোগে জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, এডিসি (রাজস্ব) পি এম ইমরুল কায়েস এবং এলএ শাখার সিনিয়র সহকারী কমিশনার মুনিরা সুলতানার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী জুবায়ের আরাবি বলেন, রায় চূড়ান্তভাবে বলবৎ থাকার পর ক্ষতিপূরণ আটকে রাখতে পারে না। অধিগ্রহণের নোটিশ দিয়ে ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া শুরু করার পর একই জমির মালিকানা নিয়ে আবার প্রশ্ন তুলে টাকা না দেওয়া আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পি এম ইমরুল কায়েস বলেন, নিম্ন আদালতের রায়ের পর রেকর্ড হালনাগাদ বিষয়ে নির্দেশনা না থাকায় হাইকোর্টে আপিল করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।  এলএ শাখার সিনিয়র সহকারী কমিশনার মুনিরা সুলতানা বলেন, আদালতের রায় থাকলেও বর্তমান রেকর্ড অনুযায়ী জমিটি সরকারের নামে রয়েছে। তাই আবেদনকারীকে রেকর্ড সংশোধন করে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংশোধন করা হলে ক্ষতিপূরণ পাবেন। 

জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বিধিমালা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী দেওয়ার মতো হলে তা আটকে রাখার কোনো সুযোগ নেই। দুদক বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক  মাহফুজ ইকবাল বলেন, লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। কমিশন পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলায় অনুমোদনের জন্য তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×