ইরান যুদ্ধ
ছয় মাসে তেল কিনতেই মার্কিনিদের অতিরিক্ত খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার
ছবি: আলজাজিরা
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০০:৫২
যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারা ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে পেট্রোল ও ডিজেলের পেছনে অতিরিক্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের বরাতে জানা গেছে তথ্যটি।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এই খরচ ভাগ করে দিলে প্রতি বাড়ির খরচ হয়েছে অতিরিক্ত প্রায় ৭৬৩ ডলার। আনুমানিক ১৩১ মিলিয়ন বাড়ি রয়েছে দেশটিতে। ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে সমর্থন পায়নি। বেশির ভাগ মার্কিনি তেলের দাম বৃদ্ধির জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করছেন। তবে এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যদি এটি বাড়ে, তাহলে বাড়ুক।’ তিনি উল্টো এই দাম বৃদ্ধির জন্য তেল কোম্পানিকে দায়ী করেছেন।
যে যুদ্ধ ট্রাম্পের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কথা ছিল, তা এখন ষষ্ঠ মাসে প্রবেশ করেছে। বর্তমানে এর কোনো কূটনৈতিক সমাধানও হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রেও তেলের দাম কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মার্কিনিরা ডিজেলের চেয়ে পেট্রোলের দাম নিয়ে বেশি সমস্যার মুখে রয়েছেন। কারণ, তারা এটিই বেশি ব্যবহার করেন। গত ছয় মাসে এটির দাম বেড়েছে ৩৯ শতাংশ। ২ দশমিক ৯৮ ডলার থেকে দাম গিয়ে ঠেকেছে ৪ দশমিক ১৫ ডলারে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম বেড়েছে এর চেয়েও বেশি; হিসাবে ৬০ শতাংশের বেশি। প্রতি গ্যালন ৩ দশমিক ৬৭ ডলার থেকে এটি গিয়ে ঠেকেছে ৫ দশমিক ৯০ ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রে অঙ্গরাজ্যভেদে তেলের দাম বাড়ছে, বিশেষ করে জ্বালানি করের কারণে ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়েস্ট কোস্টে এর দাম বেশি। এদিকে, তেল ও গ্যাস যেহেতু খাদ্য চেইনের প্রতিটি ধাপের সঙ্গে জড়িত, একেবারে ট্রাক্টর থেকে শুরু করে খাবার শীতলীকরণ, প্লাস্টিক প্যাকেজিং; সেহেতু এর দাম বৃদ্ধির ফলে বাড়িয়ে দিয়েছে খাবারের বাজারদরও। এটি অবশ্য বিশ্বজুড়েই হচ্ছে। এখন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যেখানে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে তেল ও সার আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে ‘নিয়ন্ত্রিত জোন’
এদিকে, বিশ্বব্যাপী এসব ডামাডোলের মধ্যেও অস্থিরতা থেমে নেই। ইরান জানিয়েছে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন নিয়ন্ত্রিত জোনের ঘোষণা দেবে। সে সঙ্গে তারা নতুন মানচিত্র প্রকাশ করবে, যা অনুসরণ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি সম্ভব হবে। এমন একটি সময় এই ঘোষণা এলো, যখন তেলের দাম বাড়ছেই। আগের সপ্তাহজুড়ে তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনা গতকাল সোমবারও এই দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
ইরানের দেওয়া তথ্যানুসারে, ঠিক যেখান থেকে মার্কিন অবরোধ শুরু হয়েছে, সেখান থেকে তাদের নতুন নিয়ন্ত্রিত জোন শুরু হবে এবং তা উপসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত প্রসারিত করা হবে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি এ তথ্য জানান। তবে পরিকল্পনার বিষয়ে বিশদভাবে এখনও কিছু জানাননি। শুধু বলেছেন, নতুন ওই জোনে অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ ঢুকলে তা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে।
রেজায়ি বলেছেন, ‘যখন তারা (মার্কিনিরা) অবরোধ, হুমকি ও ইরানের ওপর আক্রমণ বন্ধ করবে, শুধু তখনই আমরা হরমুজ প্রণালি খোলার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি দেব।’
আঞ্চলিক হামলা মূলত ইরানের আত্মরক্ষা
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর বিষয়টিকে সম্পূর্ণ বৈধ হিসেবে দেখছে এবং তাদের মতে এটি আত্মরক্ষা। আলজাজিরা ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘায়ির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায়। বাঘায়ি সাংবাদিকদের বলেছেন, তেহরান জাতিসংঘ চার্টারের ৫১ নম্বর ধারার ভিত্তিতে নিজ কর্মকাণ্ড বৈধ ও আত্মরক্ষামূলক বলে মনে করে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিকদের ওপর হামলা এবং নারী ও শিশুদের হত্যা করার মধ্য দিয়ে ইরানের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা করছে।
ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি না-ও হতে পারে
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক চুক্তি না-ও হতে পারে বলে গত রোববার জানান মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ইরানের সঙ্গে এমন চুক্তি না-ও করতে পারে, যা দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখবে। ক্রিস রাইট দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো চুক্তি না করে ইরানের এ রকম অস্ত্র তৈরির সক্ষমতাই নষ্ট করে দিতে পারে অথবা নতুন প্রশাসন ইরানের ক্ষমতায় আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে।
- বিষয় :
- যুক্তরাষ্ট্র
- ইরান
- ইরান যুদ্ধ
- পেট্রল
- ডিজেল