ইরান যুদ্ধ কবে শেষ হতে পারে, ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প
টেক্সাসের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের দিকে মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে ধরেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার মেরিল্যান্ডে। ছবি: এএফপি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:০৪ | আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:০৮
ইরানে হামলার ১০ দিনের মাথায় যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার কথা বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই মাসের মাথায় তিনি আবারও সংঘাত শেষের আশা ব্যক্ত করেন। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই অস্থিরতার গতিপথ নিয়ে তিনি এবার নতুন ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বুধবার রিপাবলিকান পার্টির সম্মেলনে যোগ দিতে টেক্সাসে যান ট্রাম্প। পথে সাংবাদিকদের বলেন, আগামী নভেম্বরের আগে ইরান যুদ্ধ শেষ হবে বলে মনে করেন না।
নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হবে। কারণ, তারা (ইরান) আর বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না।’ নির্বাচনের আগে তেলের দামও কমবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকারে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে নিজ দলের ভেতর থেকেও তিনি চাপের মুখে আছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় বুধবার তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছায়। জুলাইয়ের পর এই প্রথম দাম এ পর্যায়ে উঠল। ট্রাম্প মনে করেন নির্বাচনের ঠিক পরই দাম আবার কমতে শুরু করবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, ‘ইরান নির্বাচনে প্রভাব ফেলার জন্য মরিয়া চেষ্টা করছে। যাতে দুর্বল একটি গোষ্ঠী ক্ষমতায় আসে এবং তারা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে দেয়।’ দুর্বল গোষ্ঠী বলতে তিনি ডেমোক্র্যাটদের দিকে ইঙ্গিত করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচনে প্রভাব ফেলার ওই দাবির পক্ষে ট্রাম্প কোনো প্রমাণ দেননি। তেহরান বারবারই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
টেক্সাসের সম্মেলনে যোগ দিয়েও ট্রাম্প একই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ের সঙ্গে সঙ্গেই তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে।’ ভাষণে তিনি তেল নিয়ে কিছু মার্কিন নাগরিকের অসন্তোষের কথাও উল্লেখ করেন। বলেন, ‘লোকজন আমার কাছে এসে বলে, ইরান যুদ্ধ শুরু করা উচিত হয়নি। এই যুদ্ধের কারণে পেট্রলের দাম বেড়ে গেছে।’
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে শুধু মার্কিন বাজার নয়, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো এই যুদ্ধের অন্যতম বড় ভুক্তভোগী। সংঘাত বন্ধে তেহরান-ওয়াশিংটন একাধিকবার আলোচনায় বসলেও তা ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনেনি।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে দুই দেশ পাল্টাপাল্টি হামলা চালাচ্ছে। এছাড়া, মার্কিন মিত্র সৌদি আরব ও ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতিদের মাধ্যমে যুদ্ধের ব্যাপ্তি লোহিত সাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে। এই সাগরের বাব এল-মান্দেব প্রণালিও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।